শ্রীমঙ্গলে রঙের উৎসবে সম্প্রীতির মেলবন্ধন
![]() |
| উৎসবের রঙিন মুহূর্ত ছবি হয়ে থাকছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দোলপূর্ণিমা। শুক্রবার ষষ্ঠবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই দোল উৎসব পালন করা হয়। আবিরের রঙ আর ভক্তিময় পরিবেশে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
শহরের সবুজবাগ এলাকায় ‘সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ’-এর উদ্যোগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাঁড়ি ভাঙার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজন ‘আবির উৎসব’ বা ‘রঙের খেলা’ হিসেবেও পরিচিত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে (ভার্চ্যুয়ালি) যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সকাল থেকেই সবুজবাগ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। ঢাক, ঢোল, কাসর ও বাঁশির সুরে নেচে-গেয়ে মেতে ওঠেন তারা। থালায় সাজানো লাল, বেগুনি, হলুদ ও গোলাপি আবির শ্রীকৃষ্ণের চরণে অর্পণ করেন ভক্তরা। এরপর সেই রঙে একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ উৎসবে মেতেছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল নগর সংকীর্তন, ধামাইল, নাচ-গান ও প্রসাদ বিতরণ। ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
উৎসবে আসা সুশমিতা ভৌমিক বলেন, “সবুজবাগে সবচেয়ে বড় আয়োজন হয়। প্রতিবছর আমরা এখানে একত্রিত হয়ে আনন্দের সঙ্গে আবির খেলি।” আরেক অংশগ্রহণকারী বর্ণালী তালুকদার জানান, গত মঙ্গলবার দোলপূর্ণিমা থাকলেও ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগের অন্যতম বড় এই উৎসব মূলত অতীতের ভুল-ত্রুটি ভুলে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা দেয়। এদিকে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানেও শ্রমিকরা নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ‘ফাগুয়া উৎসব’ পালন করেছেন। ভাড়াউড়া ও ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানেও উৎসবটি বেশ জমকালোভাবে উদযাপিত হয়েছে।
আয়োজক কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিয়াস দাশ বলেন, 'এটি আমাদের ষষ্ঠ আয়োজন। দোল উৎসব সবাইকে এক হওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে।' তিনি আরও জানান, সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

Comments
Comments