ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ আতঙ্ক: সাতক্ষীরায় তেল কেনার হিড়িক
![]() |
| তেল কিনতে পেট্রলপাম্পে গাড়ির লম্বা লাইন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কায় সাতক্ষীরায় হঠাৎ পেট্রল ও অকটেন কেনার ধুম পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
শহরের এবি পাম্প, কপোতক্ষ পেট্রলপাম্প ও লস্কর ফিলিং স্টেশনসহ বেশির ভাগ পাম্পেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পাম্পমালিকেরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক তেল নিতে আসছেন। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে গিয়ে অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দিচ্ছে না। কোথাও কোথাও একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক হাসেম আলী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে বা দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে তেল কিনছেন। আরেক চালক ইদ্রিস আলী জানান, তিনি সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর প্রতিদিন প্রায় ১০০ কিলোমিটার যাতায়াত করেন। তাঁর প্রতিদিন অন্তত পাঁচ লিটার পেট্রল প্রয়োজন হয়। তেল না পেলে তিনি বিপাকে পড়বেন, তাই ট্যাংক পূর্ণ করে তেল কিনতে এসেছেন। কিন্তু পাম্প থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। মূলত গুজবের কারণে ক্রেতাদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার প্রায় সব পাম্পেই একই চিত্র দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা এবি খান পেট্রলপাম্পের মালিক আহসানুল কবির খান বলেন, খুলনা থেকে তাঁদের পেট্রল সরবরাহ কিছুটা কম দেওয়া হচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সংকট হতে পারে—এমন আশঙ্কায় চালকেরা ভিড় করছেন। তবে তিনি আশা করছেন, তিন-চার দিনের মধ্যে এই সমস্যা কেটে যাবে। তিনি আরও জানান, তেলের দাম বাড়া পুরোপুরি সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

Comments
Comments