[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বরখাস্ত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
 আরিফুর রহমান | ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার ডিএনসিসির সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৫’, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫’ লঙ্ঘন করে কেনাকাটা করেছেন তিনি। তাই ডিএনসিসি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা-২০১৯ অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা, দুর্নীতি ও তহবিল তছরুপ বা প্রতারণার দায়ে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বিধি অনুযায়ী তিনি কেবল খোরাকি ভাতা পাবেন।

ডিএনসিসি কর্মকর্তারা জানান, প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সাধারণত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা করে থাকেন। অনলাইনে (ই-জিপি) করা এই প্রক্রিয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ (পিই) হন। আর দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) নেতৃত্বে থাকেন প্রধান প্রকৌশলী। সবশেষ ধাপে সংস্থার প্রধান বা ‘হোপ’ দরপত্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।

সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া ডিএনসিসির অঞ্চল-৫–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান নিজেই দরপত্র আহ্বান করে এবং নিজেই ‘হোপ’ সেজে মোট ৪৮টি দরপত্রের অনুমোদন দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৫টি দরপত্রের মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছিল অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুর রহমান যখন প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়ে।

তবে বরখাস্তের এই ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন প্রকৌশলী আরিফুর রহমান। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে তিনি সংস্থার বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

আরিফুর রহমানের দাবি অনুযায়ী, ডিএনসিসির তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় গত ১৩ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর ল্যাপটপে প্রধান প্রকৌশলীর আইডিতে ঢুকে তাঁকে কাজ করতে হয়েছে।

যে ১৫টি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সম্পর্কে আরিফুর রহমান বলেন, দরপত্রগুলোর সুপারিশ তাঁর দায়িত্বের সময় শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৫টার পর থেকে ২৯ জানুয়ারি রাত পর্যন্ত খুব দ্রুততার সঙ্গে করা হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত সিস্টেমে তাঁর নাম কীভাবে থেকে গেছে, তা তিনি জানেন না।

একটি দরপত্রের সুপারিশও করেননি দাবি করে তিনি বলেন, অঞ্চল-৫–এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (যিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি বরখাস্ত হয়েছেন) নিজেই দরপত্র আহ্বান ও অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন। মাঝখানের মূল্যায়ন ধাপে মিজানুর তাঁর আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাক করে সুপারিশগুলো করেছেন।

আরিফুর রহমানের দাবি, প্রকৌশলী মিজান শুধু তাঁর সময়েই নয়, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মঈন উদ্দিনের সময়েও ৩৩টি দরপত্র প্রক্রিয়ায় একইভাবে জালিয়াতি করেছেন। তাই এই ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন