[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বস্তা নেই, আলু নিয়ে বিপাকে রাজশাহীর কৃষক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
দামদর মিটিয়ে বস্তাসংকটের কথা বলে আর আলু নিতে আসেনি ব্যবসায়ী। সেই আলু গুছিয়ে রাখছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে চোরখৈর গ্রামে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

রাজশাহীতে গত বছরের তুলনায় আলুর বস্তার দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বস্তার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আলুর বাজারে। বস্তার দাম বেশি হওয়ায় গত দুই দিনে কেজিতে আলুর দাম ৩ টাকা কমে গেছে। বুধবার যে আলু ১৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বৃহস্পতিবার সেই আলুর দাম ১৩ টাকায় নেমেছে। তবু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। বস্তার অভাবে চাষিরা বাড়ির পাশে আলু স্তূপ করে রাখছেন।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, এবার সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। বৃহস্পতিবার সেই বস্তার দাম উঠে ১৯৫ টাকায়। এতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বড় বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হিমাগার মালিকেরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বস্তার দাম বাড়াচ্ছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রাজশাহীতে আলু চাষ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার হেক্টর, তবে চাষ হয়েছে ৩৪ হাজার ২৮০ হেক্টরে।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের আলুচাষি আতাউর রহমান এবার প্রায় চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তাঁর ফলন ভালো হয়েছে। মঙ্গলবার এক ব্যবসায়ী ১৫ টাকা কেজি দাম বলেছিলেন। বুধবার তাঁর আলু নিতে আসার কথা ছিল। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী জানান, বস্তার সংকটের কারণে তিনি আসতে পারছেন না। এখন আতাউর বাড়ির পাশে আলু ঠিকঠাক করে রাখছেন, যাতে বৃষ্টি হলে নষ্ট না হয়।

রাজশাহীর রহমান কোল্ডস্টোরেজের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হালিম বলেন, এবার আলুর বস্তার বড় সংকট তৈরি হয়েছে। গতবার যারা বস্তা তৈরি করেছিলেন, তাদের সব বস্তা বিক্রি হয়নি। সেই কারণে এবার তারা বেশি বস্তা তৈরি করেননি। এতে এখন তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আলু কেনার ক্রেতা বেশি, কারণ দাম কম। কিন্তু শুধু টাকা থাকলেই আলু কেনা যাচ্ছে না—বস্তা দরকার। কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে কি না, তা যারা কেনাবেচা করছেন, তারা ভালো বলতে পারবেন।

তানোরের আলুচাষি ও ব্যবসায়ী রানা চৌধুরী বলেন, গত বছর ৭৫ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে বস্তা পাওয়া গেছে। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ১২০ টাকা করে বস্তা কিনতে হয়েছে। ঈদের এক দিন পর ১৬০ টাকা করে বস্তা কিনেছেন। এখন দাম বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। বস্তার অভাবে আলু কেনা যাচ্ছে না।

তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়ালের এবার ৬০০ বস্তা আলু হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ বস্তা তিনি হিমাগারে রেখেছেন। বাকি ৩০০ বস্তার জন্য বস্তা পাচ্ছেন না। গত বছর যে বস্তার দাম সর্বোচ্চ ৮০ টাকা ছিল, এবার তা ১৮০ টাকায় উঠেছে। বৃহস্পতিবার সেই বস্তার দাম ১৯৫ টাকা চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি বস্তা না কিনেই ফিরে আসেন। তাঁর অভিযোগ, স্টোর মালিকেরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। এর কারণে আলুর দামও পড়ে গেছে। বুধবার যে আলু ১৬ টাকা ছিল, বৃহস্পতিবার সেই আলু ১৩ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে না।

মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া মহল্লার কৃষক শামসুজ্জামান ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তাঁর ৫০০ বস্তা আলু হয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার ১৬ টাকা কেজি দরে আলুর দাম ঠিক করে এক ব্যবসায়ী তাঁকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই ব্যবসায়ী জানান, তিনি ১৩ টাকার বেশি দামে আলু নিতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি বলে গেছেন, অগ্রিম টাকাও ফেরত নেবেন না।

কোল্ডস্টোরেজ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, এবার পাটের দাম বেড়েছে। গত বছর এক মণ পাট ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার তা ৫ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এ কারণে বস্তার দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া ছুটির কারণে কলকারখানা বন্ধ ছিল। সব কারখানা চালু হলে বস্তার সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা করছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, এ ধরনের সংকটের কথা কেউ তাঁদের জানাননি। আর জানালেও এ বিষয়ে তাঁদের করার তেমন কিছু নেই। তাঁরা সর্বোচ্চ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্থানে তুলে ধরতে পারেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন