গ্রুপ কলে সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর হুমকি, থানায় অভিযোগ
![]() |
| সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত |
রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী আত্মগোপনে থেকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গ্রুপ কলে কথা বলেছেন। গত ৯ মার্চ রাতের ওই কথোপকথনে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নেতা বুধবার তানোর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম ফয়সাল সরকার (৩৫)। তার বাড়ি তানোর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি তানোর পাইলট স্কুলের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
ফয়সাল সরকার জানান, তানোরের বুরুজ গ্রামের রামিল হাসানের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ওমর ফারুক চৌধুরীর ওই গ্রুপ কলে যুক্ত হয়েছিলেন। ৯ মার্চ রাত ১১টার দিকে শুরু হওয়া সেই আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফয়সাল তার চাচাতো ভাইয়ের চাকরির জন্য দেওয়া ১২-১৩ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘তুই আমার সামনে পড়লে তোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তুই যা তা বলবি না আমার সামনে।’ উত্তরে ফয়সাল বলেন, ‘কী করবেন, মেরে ফেলবেন? যদি আপনার হাতে মৃত্যু থাকে, তবে মরে যাব, তবে টাকা আপনি খেয়েছেন।’ একপর্যায়ে ফারুক চৌধুরী গ্রুপ কলটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
থানায় করা অভিযোগে ওমর ফারুক চৌধুরীসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফয়সাল উল্লেখ করেছেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই সাবেক এই সংসদ সদস্য তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গ্রুপ কলে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে ওমর ফারুক চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments
Comments