বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বাবাকে তুলে নিয়ে মারধর, ভেঙে দেওয়া হলো হাত
![]() |
| মারধরে আহত ব্যক্তিকে প্রথমে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রোববার রাতে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় এক বাবাকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে একদল বখাটে। এতে তাঁর একটি হাত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় রোববার রাতে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সোমবার বিকেলে সিংড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। আহত ফটিক আলীর (৫৫) বাড়ি উপজেলার ইটালী ইউনিয়নে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিক আলীর মেয়ের স্বামী প্রায় দুই মাস আগে মারা যান। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন। স্থানীয় আয়ুব আলীর ছেলে ইমান আলী (২০) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তাতে রাজি হননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইমান আলী ও তাঁর বন্ধুরা রাস্তায় ওই মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। এমনকি তাঁকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করার হুমকিও দেওয়া হয়। ফটিক আলী বিষয়টি ইমান আলীর পরিবারকে জানালে বখাটেরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার রাতে ফটিক আলী বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে গেলে ইমান ও তাঁর বন্ধু রানা ও হাসান তাঁর মুখ চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় এক মোটরসাইকেল আরোহী এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে ফটিক আলীকে উদ্ধার করে রাতেই সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার বিকেলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইমান আলী ও তাঁর বন্ধুরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাদিয়া সুলতানা জানান, ফটিক আলীর শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর ডান হাত ভেঙে গেছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ব ম আবদুর নূর জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Comments
Comments