বিসিবির অগোছালো প্রশাসন, খেই হারাচ্ছে মাঠের ক্রিকেট
| গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন |
পাকিস্তানের বিপক্ষে এক দিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) সিরিজ জয়ের তৃপ্তি নিয়ে ঈদের ছুটিতে গেছে বাংলাদেশ দল। ঈদের ছুটির পরই সাদা বলের ক্রিকেটে মিরাজ-লিটনদের চ্যালেঞ্জ জানাতে নিউজিল্যান্ড দল আসবে ১৩ এপ্রিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যখন ক্রিকেটারদের টানা ব্যস্ততা, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ঘিরে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে। বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না খোদ বোর্ডের নীতিনির্ধারকেরাই।
গত অক্টোবরে নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এক অনিশ্চিত পথ পাড়ি দিচ্ছে। অথচ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয় চার বছরের মেয়াদে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড গত ৫ মাসে একটি দিনের জন্যও বোধ হয় স্বস্তিতে সময় পার করতে পারেনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর যেকোনো সময়ে ভেঙে যাবে ক্রিকেট বোর্ড, নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ঘনিষ্ঠ তামিম ইকবালের বিসিবি সভাপতি হতে দৌড়ঝাঁপ এবং সরকারি হস্তক্ষেপে বোর্ড ভাঙার খেসারত হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা—এসব আলোচনার ভিড়ে মাঠের খেলা যেন আড়ালে চলে গেছে।
বিসিবি যত ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজন করতে পারছে (এনসিএল, বিসিএল), সেগুলোই ঠিকঠাক হচ্ছে। কিন্তু ক্লাব ক্রিকেট কার্যত স্থবির। ক্রিকেটারদের জিম্মি করে ক্রিকেট সংগঠকেরা ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার খেলায় ব্যস্ত। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ কখন মাঠে গড়াবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ক্লাব ক্রিকেট অনিশ্চিত মানে ক্রিকেটারদের রুটি-রুজিতে টান। ক্লাব ক্রিকেট নিয়ে এক বিসিবি পরিচালক বলেছিলেন, ‘খেলা আয়োজনে আমরা প্রস্তুত। মাঠও প্রস্তুত। ক্লাবগুলোকে বিসিবি ১৯ কোটি টাকা দেয়। কিন্তু কয়েকজন, যাদের ক্ষমতায় আসা সম্ভব হচ্ছে না, তাই ক্লাব ক্রিকেট স্থবির।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে স্থবিরতা থাকলেও ক্ষমতার খেলা বেশ জমেছে। তামিম ও তাঁর সমমনা সংগঠকরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ করেছেন। বিএনপির প্রভাবশালী রাজনীতিকদের আনুকূল্য পেতে তামিম সব চেষ্টাই চালাচ্ছেন। সাবেক ফুটবল অধিনায়ক আমিনুল হকের ছায়া তামিম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই অনুভব করছেন। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেন বোর্ড ভাঙার সিদ্ধান্ত না নেন, তা বোঝাতে বিসিবির বর্তমান নীতিনির্ধারকরা নানা চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলা দেখতে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সিরিজ জেতার ট্রফি তুলে দিয়েছেন আমিনুল। এসব দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল, আমিনুলের সঙ্গে বিসিবির নীতিনির্ধারকদের দূরত্ব কমছে।
যদিও এসব দৃশ্য দেখে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না, তা স্পষ্ট হলো গত সপ্তাহে এনএসসির তদন্ত কমিটি গঠনের পর। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে তামিম ও তাঁর সমমনা ক্রিকেট সংগঠকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করেছে এনএসসি। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠন নিয়ে বিসিবি পরশু জানিয়েছে, বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির সিনিয়র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে উত্থাপন করা হয়েছে।
আইসিসির কাছে বিসিবির অনানুষ্ঠানিক বার্তা নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন দেখার পর আইসিসির সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। আইসিসি থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে কি না, সে বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।’
এই মাসের শেষ দিকে দোহায় হওয়ার কথা ছিল আইসিসির সভা। দোহাতে বাতিল হলেও সভা অনলাইনে হবে। সেখানে বিসিবি সভাপতি বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরবেন। ঈদের পর অস্ট্রেলিয়া থেকে বুলবুল ঢাকায় ফেরার কথা। যদি জাপানে এসিসির কোনো কাজ না থাকে, তাহলে ২৪, ২৭ বা ২৮ মার্চ বিসিবি সভাপতি দেশে ফিরবেন। দেশে এসে বোর্ড সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
Comments
Comments