কুমারখালী থেকে ছাড়ার পর পথে আরও ৩৬ যাত্রী, পরে দৌলতদিয়ায় বাসডুবি
![]() |
| ফেরির অপেক্ষায় থাকা বাসটি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে | ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত |
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে। ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ার সময় বাসটিতে মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন। পরে বিভিন্ন কাউন্টারে আরও যাত্রী ওঠেন। সবমিলিয়ে কাউন্টার মাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, বাসটিতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি প্রতিদিন বেলা ২টা ২০ মিনিটে কুমারখালি পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বেলা ২টা ২০ মিনিটেও বাসটিতে ছয়জন যাত্রী ছিল।
কাউন্টার মাস্টার মো. তন্বয় শেখ জানান, দুপুরে বাসটিতে ছয়জন যাত্রী নিয়ে রওনা হয়। এরপর খোকসা থেকে আরও সাতজন, মাছপাড়া থেকে চারজন, পাংশা থেকে পনেরজন যাত্রী ওঠেন। ইঞ্জিন কাভারেও চারজন যাত্রী ছিলেন। এছাড়া গোয়ালন্দ ঘাটে কিছু যাত্রী ওঠেন। চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারসহ বাসটিতে অন্তত ৫০ জন ছিলেন।
কাউন্টার মাস্টার বললেন, ৪০ সিটের বাস হলেও ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। আবার ফেরিতে ওঠার সময় কেউ কেউ নেমে যেতে পারেন। তাই নদীতে পড়ার সময় ঠিক কতজন ছিলেন তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছিল বাসটি। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। রাত ৮টা পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, বিকেল পাঁচটার কিছু পর বাসটি ৩ নম্বর ঘাটে আসে। তখন ঘাটে থাকা একটি ফেরি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার দিকে রওনা দেয়। কিছু যাত্রী ওই ফেরিতে উঠতে না পারায় বাসটি অন্য ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। সোয়া পাঁচটার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে আঘাত করলে বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
মনির হোসেন আরও বলেন, ‘চোখের সামনে বাসটি নদীতে পড়ে গেল, আমরা কিছু করতে পারিনি। বাসটিতে নারী-শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। কেউ কেউ উদ্ধার হয়ে ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েছেন।’

Comments
Comments