[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বনমোরগ উদ্ধার করে 'দেশি মোরগ' অবমুক্তের নাটক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বনে অবমুক্ত করা মোরগ (বাঁয়ে) ও উদ্ধার হওয়া বনমোরগ। গতকাল বিকেলে খাগড়াছড়ির গুইমারায় | ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত

স্থানীয় বাজার থেকে বনমোরগ কিনে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যক্তিকে আটক করে বন বিভাগ। তাঁর কাছ থেকে বনমোরগটি উদ্ধার করে মুচলেকা রেখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, উদ্ধারকৃত সেই মোরগটি বনে অবমুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুরনো একটি 'দেশি মোরগ' অবমুক্ত করার ছবি গণমাধ্যমে পাঠানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম সিরাজুল ইসলাম, যিনি জালিয়াপাড়া রেঞ্জের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুর এলাকার এক বাসিন্দা বাজার থেকে বনমোরগটি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে বন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম তাঁকে থামিয়ে মোরগটি কেড়ে নেন এবং স্থানীয়দের সাক্ষী রেখে একটি মুচলেকা নেন।

ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি জানান, বাড়ি ফিরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন বিভাগ কর্তৃক একটি মোরগ অবমুক্ত করার ছবি দেখতে পান। কিন্তু সেই ছবির মোরগের সাথে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা বনমোরগের কোনো মিল নেই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেনও একই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মোরগটি আটক করার সময় আমি সেখানে ছিলাম এবং নিজের মুঠোফোনে ছবিও তুলে রেখেছিলাম। পরে যে মোরগটি অবমুক্ত করার ছবি পাঠানো হয়েছে, সেটি আসলে একটি দেশি মোরগ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, উদ্ধার করা বনমোরগটি তিনি গুইমারা সেনা রিজিয়নের পাশে অবমুক্ত করেছেন। তবে গণমাধ্যমে পাঠানো ছবির সাথে উদ্ধার হওয়া মোরগের অমিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, ছবিটি গত বছরের। কিন্তু কেন পুরনো ছবি পাঠানো হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, অবমুক্ত করার ছবিটি যে বনমোরগের নয়, তা নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া।

খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানান, আমাকে জানানো হয়েছে বনমোরগটি অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে যদি এর ভেতরে কোনো অনিয়ম বা গরমিল হয়ে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন