[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বেতন দিতে ৪ বিলিয়ন ঋণ নিয়েছে ইউনূস সরকার

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মুহাম্মদ ইউনূস | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন 

ক্ষমতার প্রথম বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা পরিশোধে বিদেশ থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলার ঋণ নিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন খাতের বদলে নিয়মিত সরকারি ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণ নেওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

রোববার একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সরকার বিদেশ থেকে মোট প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে সরকারের নিয়মিত ব্যয়ে, বিশেষ করে সাধারণ সরকারি সেবায়। অর্থাৎ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের বদলে এই অর্থের বড় অংশ গেছে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য নিয়মিত খরচ মেটাতে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, বিদেশি ঋণের অর্থ দিয়ে বেতন–ভাতা দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ভালো বার্তা নয়। সাধারণত এ ধরনের ব্যয় মেটাতে ‘বাজেট সহায়তা’ হিসেবে ঋণ নেওয়া হয়, যা নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে না।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত মোট প্রায় ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারই নেওয়া হয়েছে বর্তমান সরকারের সময়, যা তুলনামূলকভাবে বড় অঙ্ক।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৯ শতাংশ। 

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই হার আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে ভবিষ্যতে সতর্কভাবে ঋণ ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে দেশ ঋণের ফাঁদে না পড়ে।

এ বিষয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ওই সময় সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে কিছুটা সংযত অবস্থান নেয়। ফলে নেওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণের বড় অংশই ছিল বাজেট সহায়তা।

তিনি বলেন, এ জন্য বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে বাজেট সহায়তার চুক্তি করা হয়। এর ফলে ওই অর্থবছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় হয়েছে।

ড. মাসরুর রিয়াজের মতে, সরকারের হাতে একেবারে অর্থের সংকট ছিল, এমন নয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত স্থিতিশীল করতে এই অর্থ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন