[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বড়াইগ্রামে পাউবোর খামখেয়ালি, তিন বছর পর একই খাল খননে ৮ গুণ খরচ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মির্জা মামুদ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। সোমবারের ছবি | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

তিন বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) খনন করা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মির্জা মামুদ খাল আবারও খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কাজের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার। তিনি দাবি করেন, আগে খাল কাটা শুধু কাগজে-কলমে হয়েছিল, এবার বাস্তবে খাল কাটা হচ্ছে এবং এর তদারকিও করা হবে।

খোঁজে জানা গেছে, ৪.৮৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মির্জা মামুদ খালটি পাউবো ২ কোটি ৬১ লাখ টাকায় খনন করছে। এর আগে একই খাল বিএডিসি ২০২২-২৩ সালে খনন করেছিল মাত্র ৩৪ লাখ টাকায়। তিন বছরের ব্যবধানে একই খাল পুনরায় খনন করা হচ্ছে প্রায় আট গুণ বেশি টাকায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুমোদন নেওয়া প্রকল্পটিকে বিতর্কিত বলছে বিএডিসি।

নাটোর পাউবোর ব্যানারে সোমবার সকালে মির্জা মামুদ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার এবং নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ।

নাটোর পাউবোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বড়াইগ্রাম উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে মির্জা মামুদ খাল। খালের নন্দকুঁজা নদী অংশ থেকে মরা বড়াল নদ পর্যন্ত ৪.৮৫০ কিলোমিটার খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। খালের বর্তমান তলদেশ থেকে ৪ ফুট গভীর এবং ৬ ফুট প্রশস্ত খনন করার কথা রয়েছে। কাজটি পেয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রাদার্স।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মির্জা মামুদ খাল আবারও খনন করা হচ্ছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

তবে বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দুই কার্যাদেশে একই খালের চার কিলোমিটার খনন করা হয়েছিল। প্রথম কার্যাদেশে ১.২৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় কার্যাদেশে ২.৭৫ কিলোমিটার খনন করা হয়েছিল ৩৪ লাখ টাকায়। তখন খালের গভীরতা ছিল ১০ থেকে ১১ ফুট।

বড়াইগ্রাম বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, ২০২২ সালে মির্জা মামুদ খালটি ৩৪ লাখ টাকায় ৪ কিলোমিটার খনন করে ৪২ হাজার ৩৯০ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়েছিল। এতে খালের নাব্যতা ফিরে আসে। সেই থেকে খালপারের কৃষকেরা খালের পানি চাষাবাদসহ প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছেন। তিনি জানান, এই খাল বর্তমানে পুনরায় খননের উপযোগী নয়। তারপরও পাউবো অযাচিতভাবে বিএডিসির এই খাল নিয়মবহির্ভূতভাবে বেশি ব্যয়ে খনন শুরু করেছে।

জিয়াউল হক পরামর্শ দিয়েছেন, সরকারের খাল খননের মতো মহতি উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে মির্জা মামুদ খাল বাদ দিয়ে নাব্যতা হারানো অন্য খাল খনন করা উচিত। অন্যথায় সরকারি টাকার অপচয় হবে।

এ বিষয়ে জানতে নাটোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধরেননি। তবে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বলেন, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। তাই মির্জা মামুদ নামে যে খাল খনন করা হচ্ছে, সেটি বিএডিসির খাল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

খালের খননকাজের উদ্বোধনের সময় একই খাল পুনরায় খনন নিয়ে প্রশ্ন করলে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের আমলে কোনো খাল খনন হয়নি, হয়েছে শুধু অনিয়ম-দুর্নীতি। খাল কাটা হয়েছিল কাগজে-কলমে, বাস্তবে হয়নি। এই খালের খনন আমরা মনিটর করব। কোনো রকম অনিয়ম করতে দেব না।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন