[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নেপালে আরএসপি পারল, বাংলাদেশে এনসিপি পারল না কেন?

প্রকাশঃ
অ+ অ-
অভূতপূর্ব গণজাগরণে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিজয় উদ্‌যাপন। ৫ আগস্ট ২০২৪, সংসদ ভবন এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রয়টার্সের প্রতিবেদনটি ছিল নেপালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে, কিন্তু তাতেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। এর কারণ হলো প্রতিবেশী দেশ দুটির গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে থাকা অদ্ভুত মিল। এক বছরের ব্যবধানে দুই দেশেই জেন–জি বা নতুন প্রজন্মের (যাঁদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে) অভ্যুত্থান রাষ্ট্র ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। এরপর এক মাসের ব্যবধানে দুটি দেশেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নেপালে নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার যখন ফলাফল স্পষ্ট হয়, তখন রয়টার্সের প্রতিবেদনে লেখা হয়, বালেন্দ্র শাহর দলের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ঠিক উল্টো। বাংলাদেশেও ২০২৪ সালে এই নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া গণ-অভ্যুত্থানে দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসকের শাসনের অবসান ঘটেছিল।

হিমালয়কন্যা নেপালে গণ-অভ্যুত্থানটি ঘটে বাংলাদেশে পরিবর্তনের পরের বছর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। সেই আন্দোলনে পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এরপর সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং তাদের তত্ত্বাবধানে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নেপালে অভ্যুত্থানকারীদের কাছে আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিলেন বালেন্দ্র শাহ। র‍্যাপ সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ৩৬ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে রাজধানী কাঠমান্ডুর নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন।

গণ-অভ্যুত্থানের নেতা হওয়ার পর বালেন্দ্র শাহ যোগ দেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে। এই দলটি ২০২২ সালে গড়ে তোলেন রবি লামিছানে। ৫০ বছর বয়সী লামিছানে প্রথাগত রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে টেলিভিশন উপস্থাপক থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন।

এই দলের প্রার্থী হয়ে বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর একটি আসনে বিপুল ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) নেতা কে পি শর্মা ওলিকে। নেপালি সংবাদপত্র ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’–এর খবর অনুযায়ী, দেশটির সংসদের ২৭৫টি আসনের মধ্যে যে ১৬৫টিতে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার নিয়ম আছে, সেই ১৬৫টি আসনের ফলাফলে ১২৫টিতে জয় পেয়েছে আরএসপি। ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএন-ইউএমএল) ৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। দেশটির সবচেয়ে পুরোনো দল নেপালি কংগ্রেস ১৮টি ও নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) ৭টি আসনে জিতেছে।

নেপাল সংসদের বাকি ১১০টি আসন দলগুলোর পাওয়া ভোটের অনুপাতে ভাগ করা হবে। সেখানেও এগিয়ে আছে আরএসপি। দলটি অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়েছে। ফলে দুই মিলিয়ে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে এখন নতুন এই দলটি।

২০২২ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আরএসপি ওই বছর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের সাতটি আসনে জয় পেয়েছিল। আর ভোটের হারের অনুপাতে পায় আরও ১৩টি আসন। ওই নির্বাচনের পর পুষ্পকমল দহলের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জোট করে সরকারে যোগ দিয়েছিল আরএসপি। রবি লামিছানে উপপ্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কয়েকটি মন্ত্রীর পদও পেয়েছিল দলটি।

নতুন প্রজন্মের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামনে চলে আসা দলটি এবারের নির্বাচনে এককভাবেই লড়ে অভাবনীয় জয় নিয়ে এখন সরকার গঠনের পথে।

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সফল অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরাও পরের বছর রাজনৈতিক দল গঠন করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত সেই দলের নাম হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এককভাবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিলেও সেই কথা তারা ধরে রাখতে পারেনি।

এক বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তারা পুরোনো একটি দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ে তোলে। ৩০০ আসনের মধ্যে এই জোট থেকে ৩০টি আসন ভাগে পায় নতুন প্রজন্মের এই দলটি। তার মধ্যে তারা জয়ী হয় ছয়টি আসনে।

আরএসপির মতো এনসিপিও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন চেয়ে মাঠে নেমেছিল। ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালে নতুন ভোটার যেমন ১০ লাখের মতো ছিল, ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশেও প্রায় ৫০ লাখ নতুন ভোটার ছিল। আরএসপি যেমন গুছিয়ে নির্বাচনে নেমেছিল, এনসিপির নেতারাও ভোটের আগে দেশজুড়ে চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু শেষ বিচারে নেপালে তরুণদের দলটি প্রথাগত রাজনীতিবিদদের ভোটের মাঠে কোণঠাসা করতে পারলেও বাংলাদেশে তরুণদের দলটি তা পারেনি।

নেপালে আরএসপির ক্ষমতায় যাওয়ার আভাস বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আলোচনায় এই প্রশ্নই আসছে—এনসিপি কেন পারল না? এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং সংগঠনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে না পারার বিষয়টি যেমন আলোচনায় আসছে, তেমনি জোটগতভাবে নির্বাচন করায় এনসিপির আসল সক্ষমতা যাচাই হয়নি বলেও কথা উঠছে। কারও কারও ধারণা, জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় এনসিপি ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন হারিয়েছে।

নেপালে অভ্যুত্থানকারীরা ক্ষমতায় না গিয়ে নির্বাচনের জন্য দল গোছালেও বাংলাদেশে তরুণেরা সরাসরি ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এনসিপির গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। অভ্যুত্থানের পর সংগঠন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ কম দিয়ে অন্যান্য বিষয়ে বেশি আগ্রহের কারণেও দলটি পিছিয়ে পড়েছে বলে অনেকের মত।

অবশ্য এনসিপির নেতারা বলছেন, তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা কমাতে বিভিন্ন পক্ষের নানা অপপ্রচার ছিল। তবু জনগণ এনসিপিকে গ্রহণ করেছে। এনসিপির জনসমর্থনের সুবিধা অনেক আসনেই তাঁদের মিত্ররা পেয়েছেন।

নেপালের নির্বাচনের ফলাফল ও এনসিপির ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন। ইব্রাহিম আহমেদ নামের একজন ব্যবহারকারী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সময়ের যে দাবি ছিল, সেটা এনসিপির ডানপন্থী রাজনীতি মেটাতে পারেনি, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেনি। অন্যদিকে নেপালে আন্দোলনের পরে এখন আন্দোলনে সামনে থাকা দল ক্ষমতায় যাচ্ছে। কারণ, সেখানে তাঁরা এনসিপির মতো “অন্যদের দূরে ঠেলে দেওয়ার” রাজনীতি করেননি। তাঁরা সেবাভিত্তিক মধ্যপন্থী রাজনীতি করেছেন। তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিমালায়, আর এনসিপি করেছে পরিচয়ের রাজনীতি।’

আব্বাস উদ্দিন নামের একজন লিখেছেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা লালন করলেও এনসিপিকে নির্ভরযোগ্য মনে করেনি। এর পেছনে দলটির সংশ্লিষ্ট কারও কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ, আক্রমণাত্মক অঙ্গভঙ্গি ও বক্তব্য এবং ‘উশৃঙ্খল জনতা’ বা ‘মব’–সংস্কৃতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টার মতো বিষয়গুলো কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন এই ব্যবহারকারী। 

অনেক দিন ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান। এই বিশ্লেষকের মতে, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে এনসিপি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে না পারার কারণেই এমন ফলাফল হয়েছে। অন্যদিকে নেপালে আরএসপি পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠতে পেরেছিল বলেই তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে।

আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল দুটি দেশেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। তবে দুটি দেশের প্রেক্ষাপট আলাদা। বাংলাদেশের অভ্যুত্থানটি ছিল অনেক বড় ও ব্যাপক। নেপালে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া আরএসপি এবং বাংলাদেশে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে পরে গঠিত এনসিপির নির্বাচনী ফলাফলে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, নেপালে নির্বাচন অনেক দ্রুত হয়েছে। ফলে ভোটে অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার একটা প্রভাব ছিল। সেই সুবিধাটা আরএসপি পেয়েছে।

আরএসপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বালেন্দ্র শাহ এর আগে কাঠমান্ডু শহরের নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁর পরিচিতি ও অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলেন এই অধ্যাপক। এর পাশাপাশি অভ্যুত্থানের পর নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে আরএসপি দলকে সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল বলেও তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ ও নেপাল দুটি দেশেই ‘পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা’ ছিল মন্তব্য করে অধ্যাপক আসিফ শাহান বলেন, ‘নেপালে আরএসপি পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। ফলে তারা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে, যার প্রমাণ মিলছে ভোটের ফলাফলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। এনসিপি জনগণের কাছে প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছাতে পারেনি, সংগঠনের যথেষ্ট বিস্তার ঘটাতে পারেনি। অর্থাৎ, এনসিপি পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি। নির্বাচনী ফল সেটাই বলছে।’

নেপালের সঙ্গে তুলনার বিষয়টি এনসিপি নেতাদেরও নজরে এসেছে। গত শনিবার ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় এসব আলোচনার জবাব দেন দলটির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘নেপালে আরএসপি অনেক আগে তৈরি হওয়া দল। তাদের সংসদে থাকার ইতিহাসও রয়েছে। এবার তারা যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল, সেটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সেই ঘটনার সূত্র ধরে অনেকে এনসিপিকে নানা কারণে তুলনায় নিয়ে আসছেন। অথচ অভ্যুত্থানের সময় পর্যন্ত বিএনপি বা জামায়াত যে আন্দোলনের শক্তি ছিল, সেই বিষয়টি অনেকেই চেপে যান। বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোকে যারা খাটো করতে চায়, তারা জেনে-বুঝে একটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে।’

নেপালের চেয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানের প্রভাব বেশি স্পষ্ট বলে দাবি করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘যে ৯টি দল থেকে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সবাই অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল। অভ্যুত্থানের বিপক্ষে থাকা আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তাদের সহযোগী জাতীয় পার্টি, বামপন্থী কিছু দল ও সুন্নি জোট নির্বাচনে অংশ নিলেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, বেশির ভাগ জায়গায় তারা জামানতও রক্ষা করতে পারেনি। কিন্তু নেপালে অভ্যুত্থানবিরোধীরা কয়েকটি আসন হলেও পেয়েছে।’

তবে গত মাসে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসন থেকে বিজয়ী আবদুল হান্নান মাসউদের কথায় আত্মোপলব্ধির সুর ফুটে উঠেছিল।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচন করব। ৩০০ আসনে নির্বাচন করে আমরা যদি ছয়টি আসন পেতাম, সেটা অনেক বেশি সম্মানজনক মনে হতো। কিন্তু আসলে আমরা সে রকম পরিবেশ তৈরি করতে পারিনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট করাটাকে ভুল বলব না। পরিবেশ এবং সময় আমাদের সেদিকে যেতে বাধ্য করেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট না হলে এককভাবে এনসিপি হয়তো তিন-চারটি আসন পেত।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন