রাজশাহীতে ‘ইমাম নিয়োগ নিয়ে’ বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
![]() |
| শনিবার রাতে মোহনপুরের সাঁকোয়া গ্রামে জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আলাউদ্দিন (৬৫) ওই মডেল মসজিদের আজান দাতা (মুয়াজ্জিন) ছিলেন। তাঁকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করছে জামায়াতে ইসলামী। তবে বিএনপি নেতারা তাঁকে তাঁদের দলের সমর্থক বলে দাবি করেছেন।
এই ঘটনার পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কিছুক্ষণের জন্য রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিএনপির এক কর্মীর একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, ঈদের নামাজে কে ইমামতি করবেন, তা নিয়ে সন্ধ্যার পর মডেল মসজিদে মুসল্লিদের একটি বৈঠক ছিল। সেখানে আলাউদ্দিনের ছেলেদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন কর্মীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবদুল আউয়াল বলেন, মারামারির সময় আলাউদ্দিন সেখানে এসে তাঁর ছেলেদের নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। ওই সময় বিএনপির কর্মীরা আলাউদ্দিনকে ফেলে দিয়ে তাঁর বুকের ওপর উঠে বসেন, এতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তাঁরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আবদুল আউয়ালের দাবি, আলাউদ্দিনের পুরো পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং আলাউদ্দিন নিজেও তাঁদের দলের কর্মী ছিলেন। তবে পুলিশ বলছে, আলাউদ্দিনের ছেলেরা জামায়াত করলেও তিনি নিজে বিএনপির সমর্থক ছিলেন।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে তথ্য পাচ্ছি যে, আলাউদ্দিন বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে তাঁর ছেলেরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি থামাতে গিয়ে আলাউদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনার পর রাতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল, তবে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ঘটনার পর তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল, পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।’
ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন মোহনপুরের কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো। সেখানে তিনি জামায়াত কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তিনি জানান, যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তাঁর ছেলেরা জামায়াতের রাজনীতি করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলাউদ্দিনের ছেলেদের সঙ্গে সেখানে তর্কা-তর্কি হচ্ছিল। সেখানে গিয়ে তিনি হয়তো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তিনি তো বিএনপির লোক, তাঁকে তো বিএনপির লোকজন মারবে না।

Comments
Comments