মহাসড়ক ফাঁকা থাকলেও কাউন্টারে উপচে পড়া ভিড়, টিকিটের অপেক্ষায় যাত্রী
![]() |
| ঈদযাত্রায় গাড়ির জন্য নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডে যাত্রীদের অপেক্ষা। আজ বুধবার সকালে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। তবে নির্ধারিত সময়ে রাজধানী থেকে গাড়ি ছেড়ে না আসায় কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, কাঁচপুর ও সোনারগাঁ অংশ সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সড়কে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক এবং দ্রুতগতির ছিল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কোনো যানজট দেখা যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় অনেক যাত্রী আগেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সড়ক ভালো এবং পুলিশি তৎপরতা রয়েছে। এ কারণে মহাসড়কে গাড়ির চাপ কম।
মেঘনা টোল প্লাজায় ১২টি বুথে গাড়ি থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। চালকদের নির্দিষ্ট লেনে চলাচলে উৎসাহিত করতে মাইকিং করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকাও যানজট কম থাকার একটি বড় কারণ।
মেঘনা টোল প্লাজার কর্মকর্তা আলীফ মাহমুদ বলেন, এবারের ঈদে গাড়ির চাপ কম। এছাড়া মালবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কে যানজট নেই। এর ফলে টোল প্লাজা দিয়ে গাড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে।
![]() |
| ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় গাড়ির চাপ কম। দ্রুত গাড়ি টোল প্লাজা পার হচ্ছে। আজ বুধবার সকালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
টোল প্লাজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মনির হোসেন বেলা সোয়া ১১টার দিকে জানান, সকালে গাড়ির চাপ থাকলেও মহাসড়ক এখন ফাঁকা। যানজট নেই।
বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী থেকে বের হতে তাঁদের যানজটে পড়তে হয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অংশে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত মহাসড়ক ফাঁকা, গাড়ি দ্রুতগতিতে চলাচল করছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা বলেন, ঈদে লম্বা ছুটি হওয়ায় অনেক যাত্রী আগেই চলে গেছেন। যারা এখনও আছেন, তাঁরা ধীরে ধীরে বাড়ি যাচ্ছেন। যানজট না থাকার কারণ হিসেবে তিনি সড়কের ভালো অবস্থা এবং হাইওয়েতে পুলিশি তৎপরতাকে উল্লেখ করেন। তবে গার্মেন্টস ছুটি শুরু হলে চাপ কিছুটা বাড়তে পারে, তবে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই।
কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় এবং বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় পরিবহন কাউন্টারগুলোতে গাড়ির জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি না আসায় অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে।
ফোম কারখানায় কাজ করা রুবেল মিয়া বলেন, ঈদের ছুটিতে নোয়াখালীর চৌমুহনী যাওয়ার জন্য তিনি স্ত্রীসহ সাইনবোর্ডে গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে আটটায় গাড়ি ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও গাড়ি আসেনি। তিনি জানান, ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্য সময় ৫০০ টাকা নেওয়া হয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সালাউদ্দিন ঈদের ছুটিতে বোন, দুই ভাগনি ও আরও দুই স্বজনসহ নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। নীলাচল পরিবহনের টিকিট কেটেছেন, তবে গাড়ি তখনো পৌঁছায়নি।
সাইনবোর্ডে হিমাচল পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আবদুল জলিল বলেন, ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে আসতে দেরি হচ্ছে। সকাল থেকে তাদের ৬–৭টি গাড়ি কাউন্টার থেকে ছেড়ে গেছে। জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে গাড়িগুলোর দেরি হয়েছে, তাই যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।


Comments
Comments