[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ফেরিসংকটে ইলিশা ঘাটে আটকে আছে তরমুজবাহী ট্রাক, পচে নষ্ট হচ্ছে পণ্য

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে তরমুজবাহী কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি। রোববার তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে দিনের পর দিন শতাধিক তরমুজবাহী ট্রাক আটকে আছে। ফেরি–সংকটে সময়মতো পারাপার না হওয়ায় ট্রাকে থাকা তরমুজ পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সরাসরি মাঠে দেখা যায়, ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় পচা তরমুজের দুর্গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে আছে। ভোলা-বরিশাল-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভোলা অংশে ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। এর প্রায় ৯৯ শতাংশই তরমুজবোঝাই।

ট্রাকচালকরা জানান, ঘাটে একদিন আটকে থাকলেই তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি চালক ও সহকারীদের দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ করতে হয়। লালমোহন থেকে আসা এক চালক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাতে তরমুজ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু এখনো ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাননি।

বোরহানউদ্দিনের চালক নীরব হাওলাদার অভিযোগ করেন, ইলিশা ঘাটে কোনো নির্দিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল, বিশ্রামাগার বা শৌচাগার নেই। সড়কের ওপর গাড়ি রেখে থাকতে হয়, স্থানীয় লোকজনের গালাগাল সহ্য করতে হয়। রাতে গাড়ির ব্যাটারি ও সরঞ্জাম চুরি হয়, ত্রিপল কেটে তরমুজও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবু টার্মিনাল খরচ হিসেবে ১৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

চালকদের অভিযোগ, সারা বছরই এই নৌপথে নাব্যতার সমস্যা থাকে। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে ফেরিতে গাড়ি পারাপার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ফেরির স্বল্পতা আরও জটিলতা বাড়াচ্ছে; একটি চালু থাকলেও অন্যটি বিকল হয়ে পড়ে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় প্রায় ৫০ হাজার একর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ হাজার একর বেশি। প্রতি একরে ফলন প্রায় ১৫ হাজার কেজি।

বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কৃষক মো. শাহাব উদ্দিন ফরাজি বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে বাজারে তরমুজের দাম কমে গেছে। আগে যেখানে ১০০টি তরমুজ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৯–১০ হাজার টাকায় নামছে। পরিবহন খরচ উঠছে না, তার ওপর ফেরি–সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করে দিয়েছে।

ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ বলেন, আগে পাঁচটি ফেরি থাকলেও একটি বিকল হয়ে ডকইয়ার্ডে আছে। তবে ‘গৌরী’ নামের একটি বড় ফেরি যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং আর কোনো গাড়ি আটকে থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ভোলা-বরিশাল-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভোলা অংশে ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় আছে ট্রাক | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের চাপও বেড়ে গেছে। রোববার সকাল থেকে ইলিশা ঘাট থেকে ঢাকার সদরঘাটের দিকে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে গেছে, প্রতিটি লঞ্চই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছুটেছে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট ঘাটের উদ্দেশে ছয়টি নৌযান ছেড়ে গেলেও নৌযান সংকটের কারণে শত শত যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন।

অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বাধ্য হয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে স্পিডবোটে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হতেই হঠাৎ যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীদের কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন