[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

৬ বছরেও চার লেনের কাজ শেষ না হওয়ায় ঢাকা-শরীয়তপুর পথে দুর্ভোগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরে যাতায়াতের সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ৬ বছরেও । সোমবার জাজিরার রসের মোড় এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় সহজে যাতায়াতের জন্য চার লেন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, আর ২০২১ সালে শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ছয় বছর পার হলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, ভূমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। ওই অংশের জমি বুঝে না পেয়ে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। ঈদে ঘরমুখী মানুষদের এই অংশ দিয়ে যাতায়াত করতে ভোগান্তি হচ্ছে।

শরীয়তপুর সওজ সূত্রে জানা যায়, জেলার বাসিন্দাদের ঢাকায় সহজে যাতায়াতের জন্য সরাসরি কোনো সড়ক ছিল না। তাই পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা শহর থেকে নাওডোবা পর্যন্ত ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৪ লেনে রূপান্তর করতে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৭ কিলোমিটার সড়কের জন্য ১০৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ শুরু করে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা।

সওজ সূত্রে আরও জানা যায়, ২৭ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও নির্মাণ প্রকল্পটিকে তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্যাকেজে জেলা শহর থেকে জাজিরা উপজেলা সদর পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার, আরেকটি প্যাকেজে জাজিরা টিঅ্যান্ডটি থেকে নাওডোবা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার, আরেকটি প্যাকেজে দুটি সেতু ও সেতুর দেড় কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ সময়সীমা ইতিমধ্যে একবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী জুনে দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হবে।

তবে জেলা শহর থেকে জাজিরা পর্যন্ত প্যাকেজের দুই কিলোমিটার এলাকার জমি অধিগ্রহণ এখনও শেষ হয়নি। এজন্য ওই অংশের কাজ শুরু করা যায়নি। সেখানে খানাখন্দ ও ভাঙা সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। জাজিরার টিঅ্যান্ডটি থেকে নাওডোবা পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশের অধিগ্রহণও শেষ হয়নি। সেখানেও জমি না পাওয়ায় ঠিকাদার কাজ করছেন না। আরেক প্যাকেজের আওতায় কীর্তিনাশা নদীতে দুটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজিরহাট সেতুর নির্মাণ এখনও শেষ হয়নি।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরের যানবাহন চলাচল বেড়েছে। মাদারীপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরের মানুষও এ সড়ক ব্যবহার করে ঢাকায় যাতায়াত করছেন। এছাড়া প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহন এ পথে চলাচল করছে। ঈদে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরে যাতায়াতের সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় যানবাহনগুলোকে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজা পার হলেই শুরু হয় এক্সপ্রেসওয়ে এবং এরপর শরীয়তপুরে যাওয়ার সড়ক। সড়কের ছয় কিলোমিটার অংশের অবস্থা নাজুক হওয়ায় যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এক যানবাহন অন্য যানবাহনকে সাইড দিতে গেলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের সড়কে অপেক্ষা করতে হয়।

শরীয়তপুর-ঢাকার পথে প্রতিদিন বাস চালান আবদুল হান্নান বলেন, সড়কটি দিয়ে চলাচল অনেক ভোগান্তির। খানাখন্দে চলতে গিয়ে বাসের যান্ত্রাংশ ভেঙে সড়কের মধ্যে বিকল হয়ে পড়ে। তখন ওই সড়ক দিয়ে সব যানবাহন আটকে যায়। অন্তত এক ঘণ্টা যানজটে থাকতে হয়। এটি এখন প্রতিদিনের চিত্র।

সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন জানান, সড়কটি পুরোপুরি না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু স্থানে এখনো জমি বুঝে পাওয়া যায়নি, তাই ঠিকাদার সেখানে কাজ করতে পারছে না। সড়কের নির্মাণের মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হবে। আমরা আরও এক বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছি।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সব দপ্তরকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু দুটি এলাকায় দুই কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ এখনও শেষ হয়নি। এর বাইরে সড়কের প্রায় সব জমি অধিগ্রহণ হয়ে গেছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন