কমেছে ডিজেল সরবরাহ, লাইটার জাহাজ ও ডিপো পরিচালনায় শঙ্কা
![]() |
| অগভীর সমুদ্রে নোঙর করে আছে পণ্যবাহী শত শত লাইটার জাহাজ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ডিজেল সরবরাহ কমানোর প্রভাব পড়েছে আমদানি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছোট মালবাহী জাহাজ (লাইটার জাহাজ) চলাচলে। আবার রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি পণ্যাগারগুলোতেও (ডিপো) এই প্রভাব পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের গভীর সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য খালাস করে ছোট জাহাজে নেওয়া হয়। এরপর নদীপথে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের নানা ঘাটে নিয়ে পৌঁছানো হয়। এ কাজে এখন ১ হাজার ৫০টি ছোট মালবাহী জাহাজ রয়েছে। ডিজেল-সংকটে নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হতে শুরু করেছে।
ছোট জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে জানান, জ্বালানি-সংকটের কারণে অনেক ছোট জাহাজ কর্ণফুলী নদীতে পণ্য নিয়ে ভাসছে, গন্তব্যে যেতে পারছে না। বন্দর থেকে নদীপথে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।
জানতে চাইলে বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ গতকাল সোমবার বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে ছোট মালবাহী জাহাজে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সংকট শুরু হয়। প্রতিদিন পণ্য পরিবহনের জন্য গড়ে ৭০ থেকে ৮০টির মতো জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ৩ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে অনেকে জ্বালানি না পেয়ে গন্তব্যে যেতে পারছে না।’
একই অবস্থা বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতেও। চট্টগ্রামের ২১টি ডিপোতে রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। এরপর বড় বক্সে (কনটেইনার) ভরে বন্দর দিয়ে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। আবার পণ্যবাহী বড় বক্সগুলো বন্দর থেকে এনে ডিপোতে খালাস করা হয়। এসব কাজের জন্য ১ হাজার কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়ি এবং ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি রয়েছে, যেগুলোর জন্য ডিজেল প্রয়োজন। গত রোববার পাঁচটি ডিপো ডিজেল চেয়েও পায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, ডিপোগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দিনে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে সম্প্রতি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানি ডিপোগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল দিতে রাজি হচ্ছে না। এতে ডিপোগুলো জ্বালানি–সংকটে পড়বে।
জানতে চাইলে পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান গতকাল রাতে বলেন, তেল সরবরাহ চলছে। তবে সরকার তেলের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে বলেছে। এ কারণে আগের চেয়ে কম পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে একেবারে তেল সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। গতকাল ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে এসেছে। এ সপ্তাহেই আরও কয়েকটি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। ফলে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Comments
Comments