[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দখল, দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ‘ইচ্ছেমতো’ আসামি

প্রকাশঃ
অ+ অ-

১০০ মামলার তথ্য বিশ্লেষণ

  • ৩৪ মামলায় আসামিদের কারও কাছে টাকা দাবি।
  • ৩৭ মামলায় আসামি পেশাজীবীরা।
  • হয়রানিমূলক আসামির নেপথ্যে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব।
  • পাঁচটিতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীও আসামি।
Icon
  • ১১টিতে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা ব্যক্তিও আসামি।
  • ৩২ মামলার বাদী বলেছেন, তাঁরা সব আসামি চেনেন না।
  • সচেতন নাগরিক, আত্মীয় পরিচয় ও নিজের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা ৮ জনের।
  • অন্তত ১৮ মামলার বাদী বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। যুবলীগ কর্মীও আছেন ১ জন।

ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানীয়া (৪৮) তাঁর নবজাতক কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর মনোয়ারা হাসপাতালে থাকাকালীন গত বছরের ৫ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ভাটারা থানার মো. রিয়াজ হত্যা মামলায় জড়িত।

গ্রেপ্তারের পর ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানীয়ার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সেখানে তাঁকে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ জুন রিয়াজ হত্যা মামলায় জামিন পেলেও সেদিনই ভাটারা থানার অন্য একটি মামলায় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নতুন মামলায় তাঁর পরিচয় বদলে লেখা হয় ‘কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক’। অথচ স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় বা থানা কোনো কমিটিতেই তাঁর নাম নেই।

নিহত রিয়াজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই একই ঘটনায় যাত্রাবাড়ী ও ফতুল্লায় আগে থেকেই দুটি মামলা ছিল। একই ঘটনায় তৃতীয় মামলাটি হয় ভাটারা থানায়, যে মামলায় ইসমাইল প্রধানীয়া ১০৯ দিন জেল খাটেন। যদিও আইন অনুযায়ী একই ঘটনায় একাধিক মামলা হওয়ার সুযোগ নেই।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, অ্যাপার্টমেন্ট ও বিপণিবিতানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে রাজনৈতিক নেতা সাজিয়ে এই হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। গত বছরের ২২ আগস্ট জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ইসমাইল প্রধানীয়া বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আমার জীবন ও পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। এখনো সেই অন্যায় মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে।’

এক অনুসন্ধানে ১০০টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষকেও এসব মামলায় ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছে। এর পেছনে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক শত্রুতা, সম্পদ দখল, চাঁদাবাজি ও প্রতিহিংসার মতো কারণগুলো কাজ করেছে। এমনকি দুটি মামলায় তিনজন মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

৩২ জন বাদী স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা চেনেন না এমন ব্যক্তিদেরও মামলায় আসামি করেছেন। অনেক বাদী পরে আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন যে, ভুলবশত কাউকে কাউকে আসামি করা হয়েছে। অন্তত ৪৭টি মামলায় ৬০০-এর বেশি আসামির নাম বাদ দিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে, যেখানে ২০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে একটি মামলায় আসামিদের জামিনে আপত্তি নেই বলায় বাদীকে হাজতবাসও করতে হয়েছে।

এই হয়রানির পেছনে রাজনৈতিক নেতা, অসাধু আইনজীবী, কিছু পুলিশ সদস্য এবং একটি বিশেষ চক্র জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার নাম না থাকা সত্ত্বেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, মামলা থেকে বাঁচতে তাঁদের ঘুষ দিতে হয়েছে।

নিরপরাধ ব্যক্তিদের এভাবে ফাঁসানোর ঘটনায় শহীদদের পরিবারগুলোও ক্ষুব্ধ। শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধীর বদলে যখন নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়, তখন বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় জাগে। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীরা সাজা পাক এবং কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়।’

এ বিষয়ে পুলিশের তৎকালীন আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছিলেন, তদন্তে যদি কারও অপরাধের প্রমাণ না মেলে, তবে পুলিশ সুপারদের নিজ থেকেই আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে তাঁদের অব্যাহতি দিতে বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এ পর্যন্ত ৮৩২ জন শহীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আরও ১২ জনের নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গত ৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে আহত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬৯ জন।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্বজন হারানো পরিবারগুলো এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘সচেতন নাগরিক’ পরিচয়ে অনেকে মামলা শুরু করেন। এসব মামলায় শত শত মানুষকে আসামি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাঁদের নামের সাথে আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন ভুয়া পদবি জুড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বারবার নির্দেশ দিয়েছিল যে, মামলা হলেই যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। এমনকি গত বছরের ১০ জুলাই ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে তদন্ত চলাকালেই নিরপরাধ ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়ার (অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন) সুযোগ তৈরি করা হয়। তবুও নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পুলিশের তথ্যমতে, জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট মোট মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৮৪১টি, যার মধ্যে ৭৯১টিই হত্যা মামলা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৬টি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৬৩৮টি মামলায় ৪ হাজার ২৮৫ জনের অপরাধের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির জন্য অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও পরিচালন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, কিছু মামলায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা ভুল তথ্য দিয়ে আসামি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি ঘটনার স্থান নিয়েও মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে প্রয়োজনে নতুন মামলা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ১০টি তদারকি দল সারা দেশের এই মামলাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা না হয়।

স্বজনদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে রিয়াজ নিহত হন। মরদেহ পড়ে থাকা রাস্তার একটি ছবি দেখে তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগম স্বামীকে শনাক্ত করেন এবং ওই বছরের ১৪ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।

তবে এই মামলার আগেই ২৩ অক্টোবর একই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা হয়েছিল। পরবর্তী বছর ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল ঢাকার ভাটারা থানায় একই ঘটনায় তৃতীয় মামলাটি করেন জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। সেই মামলায় ২৮১ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়, যেখানে ব্যবসায়ী ইসমাইল প্রধানীয়াসহ অনেককেই হয়রানিমূলকভাবে জড়ানো হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার বাদী জাহিদুলের দেওয়া ঠিকানা ভুয়া এবং তাঁর ফোন নম্বরটিও বন্ধ।

শহীদ রিয়াজের স্ত্রী ফারজানা বেগম জানিয়েছেন, ভাটারা ও ফতুল্লা থানায় মামলা করা ব্যক্তিদের তিনি চেনেন না। মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের লক্ষ্যেই এই মামলাগুলো করা হয়েছে। ভাটারা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, বাদী জাহিদুলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের সত্যতাও মেলেনি। উল্টো জাহিদুলের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত আবেদ আলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ প্রতারণার অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

এ ধরনের অপরাধীর করা মামলায় যাচাই-বাছাই ছাড়া কেন ডিবি পুলিশ একজন ব্যবসায়ীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসমাইল প্রধানীয়ার দাবি, মৌচাকের ফরচুন শপিং মল ও একটি অ্যাপার্টমেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নাসির উদ্দিন ওরফে দুলাল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পুরোনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বের কারণেই তাঁকে ও দোকান মালিক সমিতির ১১ জন সদস্যকে লক্ষ্য করে ২৮টি মামলা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, এই মামলাবাজ চক্রের কথিত নেতা সাইফুল ইসলাম বাহার তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ তালিকায় নাম রয়েছে কাজী আশরাফ আহমেদ রিয়াজের। তাঁকে হত্যার ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আরও ৯৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের মধ্যে পাঁচটি নাম বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যারা জোয়ারসাহারা এলাকার একটি জমির যৌথ মালিক। তাঁরা হলেন—ফারুক হোসেন, আশিকুর রহমান, নুরুল আমিন প্রামাণিক, মনোয়ারুল ইসলাম ও আহসান হাবীব। এঁদের কারোরই কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।

পুলিশের কাছে দেওয়া এক আবেদনে এই পাঁচ ব্যক্তি জানান, কালশী সড়কসংলগ্ন তাঁদের জমিটির পাশেই মাসুদ আলী গংদের জমি রয়েছে। মাসুদ আলীরা সেখানে একটি আবাসন কোম্পানির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের চুক্তি করেছেন, যার জন্য এই পাঁচ ব্যক্তির জমিও প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, জমিটি দখলে নিতে ব্যর্থ হয়ে মাসুদ আলীরা তাঁদের জুলাই হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। তবে মাসুদ আলী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না।

মামলার বাদী ও নিহত আশরাফের বাবা কাজী বাবুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের গুটিকয়েক নেতা ছাড়া বাকি আসামিদের তিনি চেনেন না। ওই পাঁচ ব্যক্তির নাম এবং তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর কীভাবে মামলার এজাহারে এল, সে বিষয়েও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি শুধু বলেন, "এত কিছু বলতে পারছি না, তবে কিছু না কিছু সহযোগিতা তো অবশ্যই আছে।"

ভুক্তভোগী মালিকদের একজন ফারুক হোসেন জানান, জমির দলিল থেকে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সংগ্রহ করে জালিয়াতির মাধ্যমে মামলায় বসানো হয়েছে। পরে জানা গেছে, এই পাঁচজনকে ভাটারা থানায় করা আরেকটি রাজনৈতিক মামলাতেও আসামি করা হয়েছে।

দেশের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান আহমেদ ফুড প্রোডাক্টস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) কোষাধ্যক্ষ মিনহাজ আহমেদকে গত বছরের ১৬ জুন বাপার একটি অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাঁর সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হকসহ মোট ৯ জন ব্যবসায়ীকে যাত্রাবাড়ী থানার মাহাদী হাসান (পান্থ) হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাহাদী হাসান হত্যাকাণ্ডে যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর নাদিম নামের এক ব্যক্তি নিজেকে নিহতের চাচা পরিচয় দিয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় প্রথম মামলাটি করেন, যাতে ওই ৯ ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর নিহতের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন কদমতলী থানায় আরেকটি মামলা করেন।

প্রথম মামলার বাদী নাদিম নিজেকে কৃষক দলের সদস্য দাবি করলেও এই মামলা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে মাহাদী হাসানের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "চাচা পরিচয় দেওয়া নাদিমকে আমি কখনো দেখিনি বা তাঁর নামও শুনিনি। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে নাদিম মামলা দিয়ে বাণিজ্য করছেন।"

আহমেদ ফুডস প্রোডাক্টসের চেয়ারম্যান সুরাইয়া আহমেদ জানান, তাঁর ছেলে মিনহাজ আহমেদ ৮৫ দিন জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পেলেও মানসিকভাবে এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, "সংগঠনের নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ শত্রুতাবশত পুরো প্যানেলকে জুলাই হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।"

একইভাবে মোহাম্মদপুরের দুটি হাউজিং প্রতিষ্ঠানের এমডি সরোয়ার খালেদের বিরুদ্ধেও অন্তত ১৪টি মামলা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদা না পেয়ে তাঁকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গেলেও মামলা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার ঘটনা এখনো থামেনি। যদিও সরকার ও পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মো. নূর খান এ বিষয়ে বলেন, অনেক মানুষকে কেবল অপদস্থ করা এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। এমনকি একই ব্যক্তিকে একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সংঘটিত অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, মামলাগুলো সঠিক আইনি প্রক্রিয়া মেনে করা হয়নি।

নূর খানের মতে, সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে এই মামলাগুলো পর্যালোচনা করা। সারা দেশের হাজার হাজার মানুষ এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে এখনো ঘরবাড়ি ও কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তাই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে নির্দোষ ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি ও হয়রানি থেকে রক্ষা করার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন