চট্টগ্রামে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কর্মীর মামলা
![]() |
| মামলার বাদী রিদুয়ান সিদ্দিকী | ছবি: সংগৃহীত |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে চট্টগ্রামের সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী। রিদুয়ান গত জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলে যোগ দেন। তিনি ফটিকছড়ির নানুপুর এলাকার শাহ সিদ্দিক বাড়ির আবদুর রহিমের ছেলে।
বাদীর আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী জানান, আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা হলেন—দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এলে বাদী তাঁর কাছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর এবং নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনা ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে দৈনিক আমার দেশ ও কর্ণফুলীসহ পাঁচটি গণমাধ্যমে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। বাদীর দাবি, ওই দিনের পর থেকে অভিযুক্ত সাতজন তাঁদের ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট দিয়েছেন।
মামলায় গণমাধ্যমে হামলার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটেছিল।
অভিযোগের বিষয়ে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার বলেন, গণমাধ্যমে হামলা বা ভাঙচুরে সাংবাদিকেরা কেউ জড়িত নন। উল্টো ৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক চলাকালে সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী রিদুয়ান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীরা পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন। হোসাইন তৌফিক আরও বলেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় রিদুয়ান ও তাঁর সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং শারীরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি বুধবার কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এ বিষয়ে রিদুয়ান সিদ্দিকী মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি কাউকে হুমকি দিইনি। উল্টো ওই সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট ও মন্তব্য করছেন।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি রিদুয়ান সিদ্দিকীসহ কয়েকজন ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন। সে সময় ফটিকছড়ি আসনের বিএনপি নেতা সরওয়ার আলমগীর তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছিলেন।
এদিকে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন। তারা অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার এবং রিদুয়ান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও একটি চক্র বাক্স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। তাঁরা সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Comments
Comments