[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

গান-আড্ডা উধাও, ঠাঁই এখন মশারিতে

প্রকাশঃ
অ+ অ-
 মশা থেকে বাঁচতে শহীদ রফিক জব্বার হলের এক শিক্ষার্থী মশারির ভেতরে বসে পড়াশোনা করছেন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

বসন্তের আগমনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন রূপে। তবে প্রকৃতির এই অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশেও মশার অত্যাচারে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা হলেই আবাসিক হলগুলোতে মশার উপদ্রব এতটাই বাড়ে যে, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মশার দাপট অনেক বেড়েছে। সন্ধ্যার পর রুমে বসে আড্ডা দেওয়া বা গান-বাজনা করা প্রায় অসম্ভব। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে মশারির ভেতরে সময় কাটাচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে মশার এই উপদ্রব নিয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক কবিরুল বাশার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের মশার মধ্যে ‘কিউলেক্স’ প্রজাতির আধিক্য সবচেয়ে বেশি। এটি কেবল বিরক্তিই বাড়ায় না, বরং ‘গোদ’ রোগের মতো সমস্যা ছড়িয়ে দিতে পারে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও বাড়ছে।

মওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী আমিনুর ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, সন্ধ্যার পর আমাদের এই রুমটা গানের সুরে মুখর থাকত। পাশের হল থেকেও বন্ধুরা আসত আড্ডা দিতে। কিন্তু এখন সেই চেনা আড্ডা থেমে গেছে। এখন রুমের সামনে দাঁড়ালে গানের বদলে শুধু সারি সারি মশারি চোখে পড়ে। মনে হয় যেন ছোট ছোট তাঁবু টানিয়ে রাখা হয়েছে।' 

কথায় কথায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই শিক্ষার্থী ‘তালপাতার সেপাই’ ব্যান্ডের একটি প্যারোডি গেয়ে উঠলেন। ঠাট্টা করে তিনি বললেন, মশার যন্ত্রণায় রাতে ঘুমানো দায়। এখন প্রিয়জনের সান্নিধ্যের চেয়ে মশার কামড়ই যেন বেশি সইতে হচ্ছে।

অন্যান্য আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় মশার সঙ্গে লড়াই। বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের শিক্ষার্থী জেরিন তাসনিম বৈশাখী বলেন, মশার কামড়ে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি উধাও হয়ে গেছে। বাঁচার জন্য কয়েল বা লিকুইড ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়াও দায়।

পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র সাত্তারের মতে, এটি কেবল অপরিচ্ছন্নতার ফল নয়। কয়েক বছর আগে মশা মারতে যে ধোঁয়া (ফগিং) দেওয়া হয়েছিল, তা হিতে বিপরীত হয়েছে। ধোঁয়ার কারণে মশা সাময়িক কমলেও ব্যাঙের মতো উপকারী প্রাণীগুলো হারিয়ে গেছে, যারা প্রাকৃতিকভাবে মশার বংশবিস্তার রোধ করত।

একই বিভাগের মাহফুজ ইসলাম মেঘ মনে করেন, ক্যাম্পাসের বড় লেক নয়, বরং ছোট ছোট ডোবা ও অবহেলিত জলাশয়গুলো এখন মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হলের পুকুর, গ্রন্থাগারের পেছনের ঝোপ কিংবা রেজিস্ট্রার ভবনের পাশের জমে থাকা কচুরিপানা ও পচা পাতা মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

মাঠপর্যায়ে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। শহীদ রফিক-জব্বার হলের কর্মী কাজী জসিম উদ্দিন জানান, রাতে দায়িত্ব পালনের সময় দুটি কয়েল জ্বালিয়েও মশা তাড়ানো যায় না। এক জায়গায় বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মশা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। তিনি জানান, জনবল সংকট ও নিয়মিত তদারকির অভাবে মশা নিধন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। সামনে দীর্ঘ ছুটিতে ক্যাম্পাস জনশূন্য হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. আবুল কাসেমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন