সিটি করপোরেশনগুলোতে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান আইপিডির
![]() |
| বিবৃতি | প্রতীকী ছবি |
প্রশাসক দিয়ে শহরের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে দ্রুত সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা বর্তমানে থমকে গেছে।
শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আইপিডি এসব কথা বলে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খানের পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে। একই চাপের মুখে আছে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লার মতো দ্রুত বেড়ে ওঠা শহরগুলো। নিয়ন্ত্রণহীন নগরায়ণ, দুর্বল সেবা ব্যবস্থাপনা এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে শহরের সংকট দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে।
বিবৃতিতে আইপিডি নগর উন্নয়নের জন্য ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়, নগর উন্নয়নে শুধু ব্যয়বহুল বড় বড় প্রকল্পকে গুরুত্ব দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এলাকাভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এতে কম খরচে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব।
যানজট কমাতে শুধু উড়ালসড়ক বা বড় অবকাঠামো নির্মাণের বদলে গণপরিবহন কেন্দ্রিক পরিকল্পনায় জোর দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইপিডি। এ ছাড়া দ্রুতগতির ট্রেন সেবা, বাস চলাচলের আধুনিক ব্যবস্থা, বাসের রুট বিন্যাস এবং পথচারীবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরির কথা বলা হয়েছে।
আইপিডির সুপারিশে আরও রয়েছে—শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বৈধ হকারদের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিবন্ধন এবং হারিয়ে যাওয়া খাল-নদী উদ্ধার করে পানি চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় সমন্বিত বিশেষ দল গঠন, ময়লা ফেলার স্থানেই তা আলাদা করা, পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ারও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
আইপিডি বলছে, নগর উন্নয়নের কাজে সমন্বয়হীনতা দূর করতে সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সেবা সংস্থার মধ্যে তথ্যনির্ভর ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি পরিকল্পনা ও পরিবেশসংক্রান্ত অপরাধ দমনে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Comments
Comments