[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সাতজনের জন্যও শোক জানাল ত্রয়োদশ সংসদ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সংসদে শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে | ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে প্রথা অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব পেশ করা হয়। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন নিজামী ও মুজাহিদ। আর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন সংসদ সদস্য।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ওই সাতজনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁদের মধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাঈদী কারাগারে মারা যান। আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাকি ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

স্পিকার নির্বাচনের পর তাঁর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তি এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রধান সচেতক নুরুল ইসলাম আরও কয়েকটি নাম যুক্ত করার অনুরোধ জানান। তাঁর প্রস্তাবে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়াও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম যুক্ত করা হয়। স্পিকার তা অনুমোদন করেন।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, শোকপ্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। তিনি সেগুলো প্রস্তাব করার জন্য বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে অনুরোধ করেন।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, শোকপ্রস্তাবটি একপেশেভাবে তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত করতে আরও সচেতন হওয়া দরকার। এ সময় তিনি আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যে মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোবহান, শেখ আনছার আলী, রিয়াসাত আলী, আবদুল খালেক মণ্ডল, হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এ কে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলীর নাম আসে।

তাহের আরও বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রসঙ্গে শোকপ্রস্তাবে ‘জামায়াতে ইসলামী’র বদলে ‘হেফাজতে ইসলাম’ বলা উচিত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ কথা বলেন এবং শরিফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, এই নামগুলোও শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হবে।

শোকপ্রস্তাবে ছালেহা খানম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কামাল ইবনে ইউসুফ ও নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর নামও সংযোজিত হয়। এরপর প্রধান সচেতক নুরুল ইসলাম আরও কয়েকজন নেতার নাম যোগ করার প্রস্তাব দেন। তিনি গৌতম চক্রবর্তী, এম এ মতিন, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, আনোয়ারুল হোসেন খান এবং বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এ কে খন্দকারের নাম যুক্ত করার কথা বলেন। অন্য কোনো নাম বাদ পড়ে থাকলে তা সংসদ সচিবালয়কে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।

পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় প্রধান সচেতক নাহিদ ইসলাম শরিফ ওসমান বিন হাদী, আবরার ফাহাদ এবং ফেলানী খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করলে স্পিকার তা গ্রহণ করেন।

শোকপ্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের বীর আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহারিয়ার খান আনাস, মেহেদি হাসান জুয়েল, ফারহান ফাইয়াজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরেণ্য ব্যক্তিদের নামও রাখা হয়।

এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। আলোচনার শুরুতে প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর আলোচনায় অংশ নেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নাহিদ ইসলাম, জোনায়েদ সাকি এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী।

প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল। পরে সর্বসম্মতিতে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদীয় আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন