[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে, প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ
অ+ অ-
খাল খনন কর্মসূচি শেষে জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীর অন্য দেশগুলো সুন্দর। জিন-ভূত নয়—মানুষই সেই দেশগুলো সুন্দর করেছে। এ দেশের মানুষ একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, ২০২৪–এর আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে। তবে তার জন্য পরিকল্পনা দরকার। আর যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর গ্রামে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন।

দেশে খাল খননের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানির অভাবে চাষাবাদ করা যায় না। আমরা বর্ষার পানিকে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাই। তখন যে পানি পাওয়া যাবে, সেটাকে ধরে রাখতে চাই। এতে কৃষকেরা উপকৃত হবেন। আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। যার আনুষ্ঠানিক শুরু হলো সাহাপাড়া থেকে।’

সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। তারেক রহমান বলেন, পুরো খালটির খননকাজ শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি নিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন। প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবেন। শুধু তা–ই নয়, কৃষকেরা প্রায় ৬০ হাজার টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০ কোটি মানুষের বসবাস এই দেশে। এত মানুষের জন্য খাবার বিদেশ থেকে আনা সম্ভব নয়। এই খাবার আমাদের দেশেই উৎপাদন করতে হবে। বিশেষ করে ধান-চালসহ মৌলিক খাবারগুলো দেশে উৎপাদন করতে হবে। শুধু খাল খনন নয়, খালের দুই পাশে ৬০ হাজার গাছ লাগানো হবে। মানুষের চলাচলের জন্য খালের দুই পাশে রাস্তা তৈরি করা হবে।’

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালে পানি না থাকায় আমাদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে হয়। ১০ বছর আগে যে গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন তার চেয়ে আরও বেশি গভীরে যেতে হয়। এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি কমে গেলে বিপদে পড়তে হবে। তাই মাটির ওপরের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। খাল ও নদী খনন করে সেই পানি সংরক্ষণ করতে হবে।’

শিগগিরই সব পরিবারের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭ হাজার মা-বোনের কাছে এটি পৌঁছে দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের সবার কাছে এটি পৌঁছে দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। তারপর আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, সেই কাজগুলো শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের জন্য যেভাবে সুদ মওকুফ করেছি, মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি, একইভাবে কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব, যা আগামী মাস থেকে চালু হবে।’

উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা। দেশের অনেক বড় কোম্পানি কৃষিপণ্য নিয়ে মিলকারখানা গড়ে তুলেছে। এই এলাকায় কৃষিনির্ভর মিলকারখানা স্থাপনের কাজ চলছে, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এবং দিনাজপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্যরা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর কবরস্থানে নানা-নানিসহ আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দিনাজপুরের সুধী সমাবেশ এবং ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় দিনাজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। 

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন