শরীয়তপুরে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধের ১ কোটি টাকার জিও ব্যাগ লুট
![]() |
| শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজের জন্য রাখা জিও ব্যাগ লুট হয়েছে। বৃহস্পতিবার মনাই হাওলাদারকান্দি এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা এলাকায় পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ লুটের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত দুই দিনে প্রকল্প এলাকা থেকে ১৩ হাজার ৫৪৬টি জিও ব্যাগ লুট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জের চরভাগা, উত্তর তারাবনিয়া, দক্ষিণ তারাবনিয়া, কাচিকাটা ও চরসেনসান ইউনিয়নের নদী ভাঙন ঠেকাতে ৫৭০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালে ৩০টি প্যাকেজে ৫.৮ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কাজ চলমান।
জানা গেছে, চরভাগা ইউনিয়নের মনাই হাওলাদারকান্দি এলাকায় ২২ নম্বর প্যাকেজের ২২০ মিটার অংশে কাজ করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। তারা সাব-ঠিকাদার হিসেবে ঈগল রিচ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিডি লিমিটেডকে নিয়োগ দিয়েছে। ওই অংশে ব্যবহারের জন্য ৭৮ হাজার ৯৫৩টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছিল।
পাউবো সূত্র জানায়, গত ৬ ও ৭ মার্চ কয়েক শ মানুষ হঠাৎ প্রকল্প এলাকায় জড়ো হয়ে জিও ব্যাগগুলো থেকে বালু ফেলে দিয়ে শুধু ব্যাগগুলো নিয়ে যায়। এভাবে দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৫৪৬টি ব্যাগ লুট করা হয়। লুট ঠেকাতে পাউবোর পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৭ মার্চ সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় রাখা বালুভর্তি জিও ব্যাগ কিছু মানুষ নিয়ে গেছে। কেন তারা এমন কাজ করল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
বালু ফেলে রেখে শুধু জিও ব্যাগ লুটের ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘চাকরিজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

Comments
Comments