[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শ্রীপুরে বনের আগুন নেভাতে বনকর্মীদের লড়াই, অগ্নিসংযোগকারী ধরিয়ে দিলে পুরস্কার

প্রকাশঃ
অ+ অ-
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বনকর্মী। সোমবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাওয়াল বনাঞ্চলে | ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাওয়াল বনাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে লাগা আগুন নেভাতে শুরু করেছেন বন বিভাগের কর্মীরা। স্থানীয়দেরও আগুন নেভানোর কাজে সম্পৃক্ত করতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে এবং সচেতনতামূলক ছোট সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন বিভাগ অগ্নিসংযোগকারীকে ধরতে বিশেষ পুরস্কারেরও ঘোষণা দিয়েছে।

বিন্দুবাড়ি এলাকায় ভাওয়াল বনাঞ্চলের শালবনঘেঁষা ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথ সংলগ্ন স্থানে ১২ মার্চ দুপুরে আগুন দেখা যায়। এ ছাড়া বিন্দুবাড়ির আরও অন্তত পাঁচটি স্থানে আগুন জ্বলে। পরদিন বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। একই দিনে কর্ণপুর, গোসিংগা, বরমী, খোঁজেখানি ও আশপাশের আরও ৭ থেকে ১০টি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহেও শ্রীপুরের সিমলাপাড়া, মাওনা, বারতোপা, শিরীষগুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল দুপুর থেকে সকাল পর্যন্ত শ্রীপুরের কয়েকটি এলাকায় বনকর্মীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে আগুন নেভাচ্ছেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বিটে মোট ১৫টি স্থানে আগুন নেভানো হয়েছে। এর মধ্যে মাওনা, পাঁচলটিয়া, কর্ণপুর, বিন্দুবাড়ি, রাথুরা, গাজিয়ারণ ও পোষাইদ মৌজা এলাকা রয়েছে। এসব স্থানে প্রায় ২০ জন বনকর্মী কাজ করেছেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বনের আশপাশে থাকা স্থানীয়দের সচেতন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় মসজিদে জুমার নামাজের আগে আগুন বিষয়ে লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের নিয়ে ছোট সভা করে আগুন প্রতিরোধ ও বনের গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে। কোনো আগুনের ঘটনা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে জানানোর পাশাপাশি নিজে আগুন নেভানোর জন্যও বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগুন দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত কাউকে ধরিয়ে দিলে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

বন বিভাগ আরও জানায়, বনের আশপাশের বাসিন্দারা চাইলে আগুন লাগার শুরুতেই তা নিভিয়ে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতা সরিয়ে দিলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে যায়। এছাড়া ফায়ার লাইন তৈরি করেও আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকানো সম্ভব। আগুন নেভানোর জন্য বনের কোনো গাছের কাঁচা ছোট ডাল ভেঙে তা ব্যবহার করতেও বলা হয়েছে। তবে এসব কাজে স্থানীয়দের আগ্রহ কম থাকায় তাদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘গণমাধ্যমে আগুনের খবর আসার পর মানুষ বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানতে পেরেছে। তবে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আগেভাগে কাজ শুরু করেছি। বনভূমির পরিমাণের তুলনায় আমাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। তাই এক জায়গার আগুন নেভাতে নেভাতে অন্য কোথাও আগুন পেড়ে যায়।’ তিনি আরও জানান, আগুন থেকে বাঁচতে মূল ভূমিকা স্থানীয় লোকজনের। যতক্ষণ তারা বনের গুরুত্ব বুঝবে না, ততক্ষণ বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন