[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নির্ধারিত সময়ে বেতন–বোনাস পরিশোধসহ ৫ দাবি গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আয়োজনে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সকালে সাভারের আশুলিয়ায় ডিইপিজেড এলাকার হাসেম প্লাজার সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন ও ঈদের বোনাস দেওয়া এবং বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে সাভারের আশুলিয়ায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আয়োজিত এক সভায় এসব দাবি জানানো হয়।

শ্রমিকদের দাবিগুলো হলো—বেতন-বোনাস ও বকেয়া টাকা সরকারি সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া, ছয় মাস বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়া।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শ্রমিকদের সুবিধার্থে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) এলাকার হাসেম প্লাজার সামনে এই সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির নারীবিষয়ক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সভাপতি তাসলিমা আখতার। এছাড়া বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলন আশুলিয়া শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী রোকনুজ্জামান মনিসহ আরও অনেকে।

এ সময় শ্রমিকদের হাতে ‘ঈদের আগে বেতন-বোনাস ও বকেয়া চাই’, ‘বেতনসহ ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি চাই’, ‘বন্ধ কারখানা খুলে দাও’ এবং ‘শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো’—এমন সব দাবি লেখা প্রচারপত্র দেখা যায়। সভা শেষে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে গিয়ে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে শেষ হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হলেও দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের নারী শ্রমিকেরা এখনো এই সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রয়োজনে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা খাত ও মালিকপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় বরাদ্দ বাড়িয়ে নারী শ্রমিকদের জন্য ছয় মাসের সপক্ষ বা বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কারখানায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জায়গা ও মানসম্মত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, আশির দশক থেকে পোশাক খাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের নানা সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী শ্রম সংস্কার কমিশন ও পরামর্শক কমিটির মাধ্যমে শ্রম অধ্যাদেশ ২০২৫-এ নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, কারখানায় যৌন হয়রানি বিরোধী নীতিমালা ও অভিযোগ কেন্দ্রসহ নানা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। আইনের প্রায় ১২৫টি ধারায় পরিবর্তন আসা একটি ইতিবাচক দিক।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও এর বাইরে প্রায় তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ায় অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার ও মালিকপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচিত সরকারের সময়ে এটিই প্রথম ঈদ। শ্রমিকেরা যাতে পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারেন, সেজন্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ৯ মার্চের মধ্যে বেতন এবং ১২ মার্চের মধ্যে বোনাসসহ সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। বর্তমানে দেশে নারীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক। তাই দেশের সব জায়গার পাশাপাশি শিল্প এলাকাগুলোতেও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে শ্রমিকেরা যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, সরকারকে সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন