বগুড়ায় ঈদের আগে রাস্তা খুঁড়ে সংস্কারের অভিযোগ, সড়কে দীর্ঘ যানজট
![]() |
| বগুড়া শহরের সাতমাথা-বনানী সড়ক সংস্কার কাজ চলছে । এক লেন খোঁড়াখোঁড়ি করায় যানজটের দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শহরবাসী । আজ রোববার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ঈদের আগে তড়িঘড়ি করে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করায় বগুড়া শহরের সাতমাথা–বনানী প্রধান সড়কের কলোনি বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভালো রাস্তার কার্পেটিং তুলে সেখানে আরসিসি ঢালাই দেওয়ায় গত তিন সপ্তাহ ধরে এক লেনে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চালক, যাত্রী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠনঠনিয়া ভাই পাগলার মাজার মোড় থেকে কলোনি বাজার পর্যন্ত কয়েক শ মিটার এলাকায় রাস্তার এক পাশ খুঁড়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এক লেনে গাড়ি ধীরগতিতে চলায় এবং ঈদের কারণে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বনানী থেকে মাটিডালি সড়কের ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অংশে প্রায় ২৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সংস্কারকাজ চলছে। গত ডিসেম্বরে কাজের আদেশ দেওয়া হলেও নির্বাচনের কারণে সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বনানী থেকে মাটিডালি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এই সড়কটি বেশ ভালোই ছিল, বড় কোনো গর্ত বা ভাঙাচোরা ছিল না। ফলে এই মুহূর্তে সড়কটি সংস্কার করা খুব একটা জরুরি ছিল না। তবে সড়কের দুপাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় কিছু কিছু জায়গায় পানি জমে যেত। বর্তমানে ঠনঠনিয়া মাজার ও ওয়াইএমসিএ স্কুল মোড় থেকে লতিফপুর কলোনি বাজার পর্যন্ত এক পাশের কার্পেটিং তুলে ঢালাই দেওয়ায় ওই অংশে চলাচল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দিনরাত প্রচণ্ড যানজট লেগেই থাকছে।
![]() |
| বগুড়া শহরের সাতমাথা-বনানী সড়ক সংস্কার কাজ চলছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সড়কের পাশের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আইনুর রুবেল বলেন, এই সড়কে আগে বড় কোনো সমস্যা ছিল না। ভালো সড়কের কার্পেটিং তুলে এখন আরসিসি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। মূলত কলোনি এলাকায় বর্ষাকালে জলজট হয়, তাই সড়ক মেরামতের চেয়ে দুপাশে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা নালা নির্মাণ করা বেশি জরুরি ছিল।
সাতমাথা-শেরপুর রুটের অটোরিকশা চালক সেলিম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের আগে ভালো সড়ক খুঁড়ে বেহাল করে রাখা হয়েছে। মাত্র ৩০০ মিটার পথ পার হতে কখনো আধা ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান বলেন, ঈদের সময় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঠনঠনিয়া টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসসহ হাজার হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অ্যাম্বুলেন্স এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু সংস্কারকাজের কারণে তিন সপ্তাহ ধরে এক লেনে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। বিশেষ করে কলোনি বাজারের সামনে যানজট বেশি হচ্ছে এবং অনেক চালক উল্টো পথে চলার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে। এতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. শরিফুজ্জামান জানান, ডিসেম্বরে কাজের আদেশ পেলেও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সময়মতো শুরু করা যায়নি। তবে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় রমজান মাসেই কাজ শুরু করতে হয়েছে। বর্তমানে এক লেনের অর্ধেক অংশ খোলা রেখে বাকি অংশে কাজ চলছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন ছিল। নির্বাচনের কারণে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে দেরি করেছেন। বর্তমানে কাজ দ্রুত গতিতে চলছে এবং শেষ হওয়া মাত্রই উভয় লেন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।


Comments
Comments