রূপগঞ্জে সাংবাদিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি
| মাইনুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক সাংবাদিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় অপহরণের ৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।
অপহরণের শিকার মাইনুল ইসলাম (৪০) দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি। তাঁর বাড়ি রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাংবাদিক মাইনুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। তারাব পৌরসভার কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি গ্যাসচালিত অটোরিকশায় (সিএনজি) তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে মুখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা মাইনুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে মাইনুল ইসলামের স্ত্রী মাকসুদা রহমান অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে মুঠোফোনে টাকা পাঠানোর মাধ্যম (বিকাশ) ব্যবহার করে ২৪ হাজার টাকা পাঠান। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ, কাঞ্চন ও ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে কাঞ্চন পৌরসভার কুশাব এলাকা থেকে মাইনুল ইসলামকে উদ্ধার করেন। অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মাইনুলের স্ত্রী মাকসুদা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুক্তিপণের দাবিতে আমার স্বামীকে অপহরণ করা হয়। মুঠোফোনে ৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়। দুই দফায় ২৪ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও টাকার জন্য তারা চাপ দিচ্ছিল। রাত ১১টার দিকে পুলিশি তৎপরতার কারণে অপহরণকারীরা স্বামীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।’
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, সাংবাদিক অপহরণের খবর পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান শুরু করে। পুলিশের চাপের মুখে অপহরণকারীরা তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
Comments
Comments