[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ধর্ষণ মামলার বিচার তিন মাসে শেষ করার দাবি নারীনেত্রীদের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

ধর্ষণ শুধু নারীর সমস্যা নয়, একে রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তিন মাসের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন নারীনেত্রীরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট’।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক ও ব্লাস্টসহ জোটের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্লাস্টের আইনসহায়তা বিশেষজ্ঞ (লিগ্যাল এইড স্পেশালিস্ট) আয়েশা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। তিনি বলেন, দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পাবনার ঈশ্বরদী ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঘটনাগুলো তার প্রমাণ।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা; ভুক্তভোগী, তাঁর পরিবার ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুযায়ী ধর্ষণসংক্রান্ত আইন সংস্কার, প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং উচ্চ আদালতের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়। ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা চরিত্রগত সাক্ষ্য ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে সাক্ষ্য আইন, ২০২২-এর সংশ্লিষ্ট ধারার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা রোজী। তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলায় দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাব ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ধর্ষণের শিকার নারীকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই সমস্যা সমাধান ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলো এই সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয় উল্লেখ করে এই নারীনেত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচিতেও নারী নির্যাতনের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার। তিনি বলেন, নারীর মর্যাদা রক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ৫ বছরের পুরোনো অন্তত ১০ হাজার মামলা ঝুলে আছে। মামলার এমন দীর্ঘসূত্রতা থাকলে অপরাধীরা ভয় পাবে না।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) জাকিয়া আনারকলি ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষায় সরকারের আলাদা সেবামূলক তহবিল রাখার প্রস্তাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ব্লাস্টের মাহবুবা আক্তার ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের রওশন আরা।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন