শ্যামনগরে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম, ১০ কেজির বদলে মিলল ৫ কেজি
![]() |
| শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণের পর ওজন করে দেখা গেছে ১০ কেজি স্থলে চাউল দেওয়া হয়েছে পাঁচ কেজি করে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীরা বলছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫ কেজি। সকাল ১০টার দিকে চাল বিতরণ করা হয়।
শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১৩,৩৩৭টি পরিবারের জন্য ১৩৩ দশমিক ৩৭০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া শ্যামনগর পৌরসভার ১,৫৪৯টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ দশমিক ৪৯০ টন। এর মধ্যে আটুলিয়া ইউনিয়নের ১,৩৭৩টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৩০ টন চাল।
অভিযোগ যাচাই করতে সকাল ১১টার দিকে আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের বালতিতে চাল দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল স্কেলে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বালতিতে করে বিতরণ করা হয়েছে। কয়েকটি প্যাকেট চাল ডিজিটাল স্কেলে ওজন করলে দেখা যায়, কোনো প্যাকেটে ৪ দশমিক ৮৫০ কেজি, কোনোটিতে ৫ দশমিক ৩০০ কেজি, আবার কোনো প্যাকেটে ৫ দশমিক ৮০০ কেজি চাল রয়েছে। কয়েকজন নারী ভুক্তভোগী জানান, তাদের ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি।
চাল বিতরণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার শাহাদাৎ হোসেন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাকে দেখা যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘বিতরণ কার্যক্রমে আমি উপস্থিত ছিলাম না। জেলা অফিসে মিটিংয়ে ছিলাম। যদি কোনো অভিযোগ আসে, পিআইও অফিসে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, আটুলিয়া ইউনিয়ন ভিজিএফ কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভিজিএফ কার্ডের সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে চাল বিতরণ—সবকিছু ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হয়েছে। আমরা শুধু তদারকি করেছি, যা হয়েছে তা আমরা দেখেছি।’
অটুলিয়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্ত্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘চাল কম দেওয়া বিষয়টি আমি জানি না। সকালেই ১,৩৭৩টি পরিবারের জন্য চাল ওয়ার্ডের মেম্বারদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধি ছিলেন, তারা উপস্থিত থেকে বিতরণ করেছেন। বিষয়টি বলতে পারবেন তাঁরা।’
চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন স্বীকার করেন, ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কার্ড ছাড়া আরও অনেক মানুষ এসেছিল, তাই সবাইকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ১,৩৭৩ জনকে চাল দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে বিতরণ হয়েছে। অনেক বেশি মানুষ এসেছিল, হয়তো বাইরে গিয়ে তারা ভাগ করেছে। আমি তখন বাইরে ছিলাম, তাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারব না।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান বলেন, ‘ওজনে চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনকও একই বক্তব্য দিয়েছেন।

Comments
Comments