[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা, আইনজীবী স্বামী আটক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
জামালপুর শহরে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ তাঁর স্বামীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

জামালপুর শহরে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে শহরের দড়িপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার (৩৬) জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা হোসাইন মো. তাইফুরের স্ত্রী। তাইফুর পেশায় একজন আইনজীবী। এই দম্পতির ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে নিহতের মরদেহ কিছুটা পুড়েও গিয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর আগে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে দড়িপাড়া এলাকার প্রয়াত নজরুল মাস্টারের ছেলে হোসাইন মো. তাইফুরের বিয়ে হয়। সম্প্রতি তাইফুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত বৃহস্পতিবার তাঁদের দুই সন্তান নানাবাড়িতে থাকায় বাড়িতে কেউ ছিল না। গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই বিছানার ওপর স্ত্রীর মরদেহ রেখে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন তাইফুর।

ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলেও ভেতর থেকে দরজা আটকানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা ভেঙে তাইফুরকে আটক এবং গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত গৃহবধূর মামা মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘তাহমিনা বাবার বাড়িতেই ছিল, গতকাল রাতে তাকে এই বাড়িতে আনা হয়। রাত একটার দিকে তাহমিনার ভাই আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এখানে এসে দেখি, তাকে হত্যা করে ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই তাইফুরকে আটক করেছে। বেশ কিছুদিন ধরে তাইফুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের সংসারে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকত। আর এখন তো সবই শেষ হয়ে গেল।’

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহইয়া আল মামুন বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করতে ঘরে আগুন দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। একটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়েছিল এবং পাশের কক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। পরে দরজা ভেঙে তাঁকে আটক করা হয়। শুক্রবার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন