[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কারো সুবিধাও দিইনি, অসুবিধাও করিনি: বিদায়ী বক্তব্যে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন 

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে বিদায় নিচ্ছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। অধ্যাপক এ বি এম উবায়দুল ইসলামকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

নিয়াজ আহমেদ খান দাবি করেছেন, তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কোনো সময়ে আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে আমাকে জানান।’

উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দিইনি, অসুবিধাও করিনি। অসত্য বয়ানকারী ও চরিত্রহননকারীদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই।’ যদিও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিভিন্ন সময়ে ডাকসু নির্বাচনসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

নিয়াজ আহমেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক। ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব ছেড়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছেন।

বিদায়ী উপাচার্য বলেন, ‘আমি আমার মূল পদ—উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপনায় ফিরে যাচ্ছি। মনে করেছি, দায়িত্ব এখন শেষ হয়েছে।’

জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে ১২ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহ পর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বিশেষ পরিস্থিতিতে উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি আপৎকালীন সময়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে ছাত্রদের অনুরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল, প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। প্রথম লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীলতায় ফেরানো। এখন সেই আপৎকালীন পরিস্থিতি নেই।’

তিনি দায়িত্বটিকে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল একটি উদ্ধারকারী মিশন। কখনোই চাকরি মনে করিনি। সাময়িক নিয়োগের কথা নিয়োগপত্রে লেখা ছিল। চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল অবস্থান থেকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার। এখন বিভিন্ন মাপকাঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। সীমাবদ্ধতা আছে, তবে সার্বিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। আপৎকালীন পরিস্থিতি আমরা উত্তরণ করতে পেরেছি।’

বিদায়ী বক্তব্যে তিনি নিজের দায়িত্বকালে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর কথা উল্লেখ করেন। প্রকল্পের আওতায় একাধিক একাডেমিক ভবন, ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসন, প্রশাসনিক ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা কাজ বাস্তবায়নাধীন।

র‌্যাঙ্কিং ও গবেষণায় অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি জানান, টাইমস হায়ার এডুকেশন ও কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত হয়েছে। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪তম স্থান অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক র‌্যাঙ্কিংয়েও একাধিক বিভাগ প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। গত ১৭ মাসে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ৬৯ জন লেকচারার নিয়োগ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আবাসিক হলে ‘গণরুম প্রথা’ বিলুপ্তি, আসন বণ্টনে নীতিমালা প্রণয়ন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, অনলাইন সেবা চালু করা এবং ক্যাম্পাসে শাটল পরিবহন। এছাড়া মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন, কেন্দ্রীয় মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নানা পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছেন।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

নতুন প্রশাসনের সামনে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন—অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পেশাগত দক্ষতা বজায় রাখা, প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম চালু রাখা এবং আবাসিক হলে দখলদারত্ব ও গণরুম প্রথা পুনরায় ফিরে আসার প্রবণতা প্রতিরোধ করা।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন কঠোর পরিশ্রম করেছি, এখন কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন।’ সহকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি নতুন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম উবায়দুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন