[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

আবারও সড়কে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা চাঁদার পক্ষে বললেন মন্ত্রী

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সংবাদ সম্মেলন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে | ছবি: সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে অর্থ সংগ্রহের পক্ষে আবারও মত দিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি নিবন্ধিত ও বৈধভাবে তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। কারণ, শ্রমিক ও মালিকেরা তাঁদের কল্যাণে এই অর্থ নেন, তাই আমি একে চাঁদাবাজি বলছি না।’

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর মাধ্যমে সরকার চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো সমিতি বা সংগঠনের বৈধতা না থাকলে এবং তারা জোর করে মালিক বা শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেছিলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা বলতে যা বোঝানো হয়, সেটিকে আমি সেভাবে দেখি না। মালিক ও শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটি ব্যয় করে। এটি একটি অলিখিত নিয়মের মতো। আমি চাঁদাবাজি তাকেই বলব, যা কেউ দিতে চায় না বা দিতে বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। এর কতটুকু ব্যবহার হয়, তা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। তবে তারা সমঝোতার ভিত্তিতেই এই কাজ করে।’

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইনে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের কল্যাণে অর্থ বা চাঁদা তোলার কোনো বিধান নেই। অতীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে নেওয়া এই অর্থের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে সমালোচনার মুখে তা আর এগোয়নি। সাধারণত কোনো সংগঠন চালানোর জন্য অর্থ নিতে হলে তা মাসে বা বছরে রশিদের মাধ্যমে নেওয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রতিটি যানবাহন থেকে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একটি যানবাহনকে একাধিক স্থানে অর্থ দিতে হয়। এর ফলে বাস ও পণ্যবাহী যানের ভাড়া বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সড়ক মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় বা সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তৎপর থাকবে। সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদের সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কেউ বেশি টাকা নিতে পারবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজনে চলাচলের অনুমতি (রুট পারমিট) বাতিল করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সড়কে তদারকি জোরদার করবে।

অবশ্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। এই সুযোগে ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবে এসি বাসের মালিকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে থাকেন। সড়ক মন্ত্রী হয়তো এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো জানিয়ে সড়ক মন্ত্রী আরও বলেন, মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চলাচলের অনুপযোগী বা বিকল হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ কোনো যানবাহন সড়কে নামতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সড়কের চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পোশাককারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি না হয়। এছাড়া যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনে বিআরটিসির অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ঈদযাত্রা আরামদায়ক করতে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন