নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ সভাপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলায় এনসিপির সংসদ সদস্য অবরুদ্ধ
![]() |
| নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন | ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া |
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা শাখা।
আব্দুল্লাহ্ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বিকেএমইএ সভাপতি থাকাকালে ওই কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। গণ-অভ্যুত্থানের পর নিট পোশাক প্রস্তুতকারকদের এই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ওই ইফতার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন ও মোহাম্মদ হাতেম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সংসদ সদস্য সেখানে এসে পৌঁছান। মঞ্চে মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে তিনি তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাঁর পাশে বসতে রাজি হননি। এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে মোহাম্মদ হাতেম তাঁর অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান বর্জন করে বেরিয়ে যান। এরপর মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আটটার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, একটি ইফতার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান (ওয়াক আউট)। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে সংসদ সদস্যকে নিরাপত্তা দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন জেলা এনসিপি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাহেব ফ্যাসিস্টদের দোসর। তাই তাঁর সঙ্গে মঞ্চে বসতে রাজি না হয়ে আমি দর্শকসারিতে বসি। এর জেরে মোহাম্মদ হাতেম ও তাঁর অনুসারীরা অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। ইফতারের পর তাঁর অনুসারীরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার হুমকি দেন এবং পাঁচজনকে আহত করেন।’
আব্দুল্লাহ্ আল আমিন আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের কোনোভাবেই ফিরে আসতে দেখতে চাই না। জনগণ গুন্ডামি পছন্দ করে না। যারা ভিড় করে বিশৃঙ্খলা (মব) করেছে এবং দেশি অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে, প্রশাসনকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্র-জনতা যেভাবে আগে ফ্যাসিস্টদের তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে আবারও তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে।’
এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন। আমাদের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে আমাকে ফ্যাসিবাদের দোসর বললে উপস্থিত শিল্পমালিকরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর আমি মালিকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি। আমরা বেরিয়ে আসার পর অন্য মালিকরা আয়োজকদের কাছে জানতে চান, কেন আমাদের দাওয়াত দিয়ে এনে এভাবে অপমান করা হলো। এই কারণে সেখানে আরও মালিকরা জড়ো হন।’
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘আমি পুলিশ সুপারকে জানাই যেন আমাদের সংসদ সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। আমাদের ব্যবসায়ী নেতাদের সেখানে পাঠিয়েছি এবং পুলিশকে অনুরোধ করেছি তাঁর যেন কোনো অসম্মান না হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।’

Comments
Comments