[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মাদ্রাসাশিশুকে যৌন নির্যাতন, সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শিশু নির্যাতন | প্রতীকী ছবি

মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে (১০) সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটিকে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক গাইনি পরীক্ষায় শিশুটিতে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এই ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় শিশুটির মা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম সোমবার রাত সোয়া ১১টায় বলেন, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করা হয়েছে।

হাসপাতালে শিশুটির সঙ্গে রয়েছেন তার মা। তারা কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। মা জানিয়েছেন, তিনি সাত-আট মাস আগে মেয়ে শিশুকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। ওই মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক তার পরিবার নিয়ে থাকেন। আর দোতলায় শিশুশিক্ষার্থীদের রাখা হয়। খাওয়াদাওয়ার জন্য তাদের নিচে আনা হয়।

শিশুটির মা জানান, মেয়েকে ভর্তি করার পরই তিনি খবর পেয়েছিলেন যে মাদ্রাসায় শিশুদের নির্যাতন করা হয়। দুই–তিন মাস আগে মেয়ের ভর্তি বাতিল করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন, মেয়ে সেখানে ভালো থাকবে আর কোনো সমস্যা হবে না। আশ্বাস পেয়ে মেয়েকে রেখে আসেন। এর মধ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়। মেয়ে জানিয়েছিল, ঈদের ছুটিতে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

মা রোববার মেয়েকে আনতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে দেখেন মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন, পেট ফোলা এবং বাঁ পা কোনো এক আঘাতের কারণে ফুলে আছে। মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী বলেছিলেন, ‘আপনার মেয়ের কিছুই হয়নি, বাড়িতে নিয়ে যান।’

এরপর মা মেয়েকে কুষ্টিয়ার একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে নিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করান। তখন জানতে পারেন মেয়ের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। পরে সোমবার সকালে তিনি মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করান। পরীক্ষার জন্য মেয়েকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গেলে দেখা যায় মেয়ের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। শ্বাসকষ্টের কারণে সে কথা বলতে পারছিল না। চিকিৎসকরা জানান, মেয়ের অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছিল। অক্সিজেন দেওয়ার পর সে স্বাভাবিক অবস্থায় আছে।

পরে রাত সোয়া ১১টায় মেয়ের বাবা জানান, অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেন।

শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, বাচ্চাটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিজে থেকে কিছু বলছে না। প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। নিশ্চিতকরণের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শিশুটিকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে।

গাইনি পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটির সতীচ্ছদ পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শংকর কে বিশ্বাস বলেন, যোনিপথ ছিঁড়ে যাওয়া ঘটনা ধর্ষণের কারণে হতে পারে, আবার অন্যভাবেও হতে পারে। গাইনি বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে শিশুটি ধর্ষণ শিকার হয়েছে কি না।

মাদ্রাসার পরিচালক সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে জানান, তিনি ছয় দিন ধরে ইতেকাফে রয়েছেন। মেয়ের পায়ে ফোড়া আছে, তাই অসুস্থ হতে পারে। তিনি নিজেকে ডায়াবেটিক রোগী দাবি করে বলেন, ‘কোনো কিছু করতে চাইলে তদন্ত সাপেক্ষে করুন। শিশুকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি।’

সোমবার সন্ধ্যায় জানা যায়, ভেড়ামারা থানার পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। থানার এক উপপরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাদ্রাসার পরিচালককে তার বাড়ি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূর থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এখনও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন