হামের সংক্রমণ রোধে ময়মনসিংহে জরুরি কমিটি, আরও ৬ শিশু ভর্তি
![]() |
| হাম আক্রান্ত এক শিশুকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
হামে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে আরও ছয় শিশু ভর্তি হয়েছে। গত রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগীকে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৭ মার্চ থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সেখানে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে; তাদের মধ্যে জ্বর ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ ছিল।
চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেতে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ মার্চ হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। এজন্য শিশু ওয়ার্ডের তিনটি আলাদা কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে হামের চিকিৎসা চলছে।
তবে হাম কর্নারের কক্ষগুলোতে রোগীদের স্থান যথেষ্ট নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটির হাম মেডিকেল টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের ৮ তলায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন এবং চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যে শিশুদের অক্সিজেন লাগছে, তারা পর্যাপ্ত পাচ্ছে। তবে আইসিইউ প্রয়োজন—এমন কোনো রোগী এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ভর্তি হয়নি।’
হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্টকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহ্মেদ। তিনি বলেন, তাঁরা সার্বক্ষণিক হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব উপজেলায় হামে আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।

Comments
Comments