বেড়া বাজারে ৫৪ বছর ধরে জনপ্রিয় বিশু ঘোষের মাঠা ও ঘি
![]() |
| ৫৪ বছর ধরে বেড়ার ইফতারে জায়গা ধরে রেখেছে বিশু ঘোষের মাঠা। বেড়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাঠা। সম্প্রতি তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই পাবনার বেড়া বাজারের এক কোণে ভিড় জমতে শুরু করে। কারও হাতে জগ বা বোতল, কেউবা এসেছেন বড় হাঁড়ি নিয়ে। সবার অপেক্ষা বিশু ঘোষের হাতের তৈরি মাঠার জন্য। ইফতারের বেশ আগেভাগেই অনেকে জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকেন, কারণ একটু দেরি হলেই শেষ হয়ে যায় এই সুস্বাদু পানীয়।
বেড়া পৌর এলাকায় প্রায় ৫৪ বছর ধরে নিজের তৈরি ঘি ও মাঠা ফুটপাতে বসে বিক্রি করছেন বিশু ঘোষ। সারা বছর চাহিদা থাকলেও রমজান মাসে এর কদর বেড়ে যায় কয়েক গুণ। স্থানীয় অনেকের কাছেই ইফতার মানে লেবু, বরফ আর বিশু ঘোষের মাঠার শরবত।
বেড়ার এই মাঠা মূলত এক বিশেষ ধরনের ঘোল। স্থানীয় উৎকৃষ্ট দুধ থেকে তৈরি হওয়ায় এর ঘনত্ব ও স্বাদ সাধারণ মাঠার চেয়ে আলাদা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে বাজারে বসার দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সব মাঠা বিক্রি হয়ে যায়। রমজানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ মণ মাঠা বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।
বেড়া পৌর এলাকার কলেজশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে ইফতারে তাঁর মাঠা খাই। সারা দিন রোজা রাখার পর এক গ্লাস মাঠার শরবত খেলে শরীরটা একদম তাজা হয়ে যায়। অন্য কোথাও এমন স্বাদ পাই না।’
শুধু ইফতার নয়, সেহরিতেও বিশু ঘোষের গাওয়া ঘিয়ের আলাদা কদর রয়েছে। ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, সেহরিতে গরম ভাতের সঙ্গে এই ঘি মিশিয়ে খাওয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। এতে স্বাদের পাশাপাশি শরীরে শক্তিও পাওয়া যায়।
বিশু ঘোষ জানান, স্বাধীনতার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সাল থেকে তিনি এই বাজারে বসছেন। তবে ঘি ও মাঠা বানানো তাঁদের পারিবারিক পেশা; বাপ-দাদার হাত ধরেই এই কৌশল শিখেছেন তিনি। যমুনাপারের পেঁচাকোলা গ্রামে জন্ম হলেও নদীভাঙনে ষাটের দশকে পরিবার নিয়ে বেড়া পৌর এলাকায় চলে আসেন। অনেকেই তাঁকে বড় পরিসরে পাইকারি ব্যবসার প্রস্তাব দিলেও তিনি মানের সঙ্গে আপস করতে চান না বলে নিজের হাতে সীমিত পরিসরেই পণ্য তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন।

Comments
Comments