[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর প্রথম ডিজেলবাহী ট্যাংকার এলো, আসবে আরও চারটি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শিউ চি ট্যাংকারটি আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায় | ছবি: মেরিনট্রাফিক ডট কম থেকে নেওয়া

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ১০ দিনের মাথায় সোমবার ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে একটি তেলের জাহাজ (ট্যাংকার)। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এসব জাহাজে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এই পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।

এমন এক সময়ে বন্দরে ডিজেলের নতুন চালান আসার খবর পাওয়া গেল, যখন বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের কারণে সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্কে অনেকে বাড়তি তেল কেনায় ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের মজুত ঠিক রাখতে সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে সরকার।

সিঙ্গাপুর থেকে আজ বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে 'শিউ চি' নামের একটি জাহাজ তেলের চালান নিয়ে বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে। এই জাহাজে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখা আন্তর্জাতিক সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্যানুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে।

জাহাজ চলাচলের প্রতিনিধি (শিপিং এজেন্ট) সূত্রে জানা গেছে, এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও চারটি তেলের জাহাজ বন্দরে আসবে। সিঙ্গাপুর থেকে সোমবার রাতে 'লিয়ান হুয়ান হু' নামের একটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যাতে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল আছে। আগামী বৃহস্পতিবার 'এসপিটি থেমিস' নামের আরও একটি জাহাজ বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এই জাহাজে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল রয়েছে। এ ছাড়া আগামী শনিবার 'র‍্যাফেলস সামুরাই' এবং 'চ্যাং হ্যাং হং টু' নামের আরও দুটি তেলের জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এই দুটি জাহাজের প্রতিটিতেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।  
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে।
—নজরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রাইড শিপিং লাইনস।

এই চারটি জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজগুলো আসার পর পর্যায়ক্রমে তেল খালাস শুরু হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা থাকে। সেই হিসাবে, এই পাঁচটি জাহাজে থাকা পরিশোধিত ডিজেল দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে রোববার থেকে দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার ২২ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে বর্তমান সরবরাহ দিয়ে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। এ ছাড়া দেশে আগে থেকে যে পরিমাণ ডিজেল জমা আছে, তা দিয়ে আরও ১৬-১৭ দিন চলবে। সব মিলিয়ে আগামী এক মাসের চাহিদার সমান ডিজেল দেশে আসছে। বিপিসির তথ্যমতে, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশই হলো ডিজেল, যার বড় একটি অংশ সরাসরি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ (প্রায় ৭৮ শতাংশ) এসেছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে এই সময়ে ডিজেল আমদানি করা হয়নি।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন