ইউপি চেয়ারম্যানকে বিএনপি নেতার প্রশ্ন: ‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন?’
![]() |
| ফোনালাপ | প্রতীকী ছবি |
খাদ্য সহায়তার কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামানের মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শামসুজ্জামান লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। অডিওটিতে তাঁদের ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। একই বিষয় নিয়ে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর ওই ইউপি চেয়ারম্যান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে আটকের পর বৃহস্পতিবার ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, খাদ্য সহায়তার কার্ডে সংসদ সদস্যের ‘৩০ শতাংশ’ ভাগ নেওয়া নিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মদাতি ইউনিয়নে দুস্থ ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ৩ হাজার ৩৪৫টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই কার্ড থেকে সংসদ সদস্যের ‘৩০ শতাংশ’ কোটা হিসেবে ১ হাজার ৩টি কার্ড দাবি করেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান।
অডিওটিতে কথোপকথনের একপর্যায়ে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়, ‘...যা-ই হোক, আপনি এমপি সাহেবের ৩০ শতাংশ আমাদের প্রতিনিধির কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন কি?’ তখন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘না, ৩০ শতাংশ নয়। আমরা সভায় বসলাম তো। আপনার বিধান দার কাছ থেকে প্রতিনিধি নিয়েছিলাম...।’ তখন শামসুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনারা সভায় বসবেন কেন?’
শামসুজ্জামান আরও বলেন, ‘আপনি ১ হাজার ৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন। বিনা ভোটের সংসদ সদস্য যখন ছিল, তাঁদের তো সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হইনি। অতীত কিন্তু ভুলিনি।’ তিনি জাহাঙ্গীর হোসেনকে আরও বলেন, ‘আপনি কিসের সভা করেন আমাদের বরাদ্দ নিয়ে? আপনি ১ হাজার ৩টি আজ বুঝিয়ে দেবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান বলেন, ‘মুঠোফোনের রেকর্ড নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরা যাঁদের তালিকা দিতে চেয়েছেন, তাঁরা অবশ্যই হতদরিদ্র। তাঁরা নিজেরা গিয়েই চাল তুলবেন। কোনোভাবেই একজন একাধিক মানুষের নামে চাল তুলতে পারবেন না। যেসব চেয়ারম্যান ও সদস্য শত শত কার্ডের চাল একাই তুলে আত্মসাৎ করেন, তাঁরা অন্যায় করার সুযোগ না পেয়েই ষড়যন্ত্র করছেন।’
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সংযোগ কেটে দেন। পরে আরও কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
এদিকে কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত বুধবার রাতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বরের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দোষ দাবি করে তাঁর স্ত্রী রুমি বেগম বলেন, খাদ্য সহায়তার কার্ডে সংসদ সদস্যের ‘৩০ শতাংশ’ ভাগ নেওয়া নিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার জেরে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বাদী উপপরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে ওই ব্যক্তিকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। এরপর তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Comments
Comments