চাহিদামতো তেল নেই পাম্পে, কর্মীদের সঙ্গে চালকদের বাগ্বিতণ্ডা
![]() |
| রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে আসা গ্রাহকদের ভিড়। ১৬ মার্চ ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা মো. বাবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। পাম্পের কাছে এসে জানতে পারলাম, মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ গত সোমবার দুপুরে তিনি এই কথাগুলো বলছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে গত রবিবার জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে সোমবার রাজধানীর বেশ কিছু জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কিছু পাম্পে গ্রাহকদের এখনো প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না। বিক্রেতাদের দাবি, মূল মজুদাগার বা ডিপো থেকে তারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।
দুপুর একটার দিকে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল দেওয়া নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে মোটরসাইকেল চালকদের কথা কাটাকাটি চলছে। চালকরা তাদের প্রয়োজনমতো তেল চাইলেও কর্মীরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব নয়।
![]() |
| জ্বালানি তেলের জন্য রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। ১৬ মার্চ ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক মো. বাবুল হোসেন জানান, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় পর পাম্পের কাছে এসে জানতে পারেন, ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এই বিষয়টি নিয়েই চালকদের সঙ্গে বিক্রেতাদের কথা কাটাকাটি হচ্ছে।
অন্যান্য জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলো প্রয়োজনমতো তেল দিলেও তারা কেন দিচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের কোষাধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমরা তো তেল পাচ্ছি না, কীভাবে চাহিদামতো দেব? মজুদাগার থেকে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই সবাইকে অল্প করে তেল দিচ্ছি।’
![]() |
| রমনা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন এক মোটরসাইকেলচালক। ১৬ মার্চ ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বেলা দেড়টার দিকে দৈনিক বাংলার মোড়ে ‘বিনিময় ফিলিং স্টেশনে’ গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তেল নেই। পাম্পের কর্মী মো. সাগর জানান, দুপুর ১২টার মধ্যেই তাদের তেল শেষ হয়ে গেছে। গ্রাহকদের কত লিটার করে তেল দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগের নিয়মেই মোটরসাইকেলে ৫ লিটার ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার করে দিয়েছি।’ সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার বিষয়ে এই কর্মী জানান, মজুদাগার বা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় গ্রাহকদের তারা প্রয়োজনমতো তেল দিতে পারছেন না।
তবে মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স, মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশন এবং পরিবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টার ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের চাহিদামতোই তেল দিতে দেখা গেছে।
![]() |
| তেল না থাকায় দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের কোনো ভিড় নেই, অলস সময় পার করছেন পাম্পের কর্মীরা। ১৬ মার্চ ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
মজুদাগার বা ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের মালিক আবদুস সালামও। তিনি বলেন, ‘আমরা তো ডিপো থেকে প্রয়োজনমতো তেল পাচ্ছি না। যতটুকু পেয়েছি, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এরপরও সবাইকে পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছি। তবে মনে হচ্ছে, সন্ধ্যার আগেই এই তেল শেষ হয়ে যাবে। তখন আর বিক্রি করা সম্ভব হবে না।’




Comments
Comments