এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা তানভীরের বিদেশযাত্রায় বাধা নেই
![]() |
| গাজী সালাউদ্দিন তানভীর | ফাইল ছবি |
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বন্ধ রাখার আদেশ প্রত্যাহার করেছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন জ্যেষ্ঠ বিশেষ বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে রোববার এই আদেশ দেন। তবে বিষয়টি মঙ্গলবার জানাজানি হয়।
মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা পরিচালনা বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, 'গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও এনআইডি পুনরায় সচল করার আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।'
দুদক কর্মকর্তা এই আবেদনের কারণ হিসেবে জানান, তানভীরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত শেষ হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক প্রতিবেদন দিয়ে আদালতকে বিষয়টি জানায়। এরপরই তাঁর ওপর থাকা বিধিনিষেধগুলো তুলে নেওয়ার আবেদন করা হলে আদালত তা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, চব্বিশের আন্দোলনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে গঠিত দল এনসিপির অন্যতম শীর্ষ নেতা তানভীরের ‘হঠাৎ বিলাসী জীবন’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দলে আলোচনার সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই ছাপার কাজে ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও ‘হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল তাঁকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সে সময় তানভীরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদ্বির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২৭ মে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং জাতীয় পরিচয়পত্রটি ব্যবহারের অনুপযোগী বা অকার্যকর করার আদেশ দিয়েছিল।
তখন দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তানভীরের বিদেশ গমন আটকানো এবং তাঁর পরিচয়পত্রটি বন্ধ রাখা প্রয়োজন, কারণ তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না মেলায় এখন সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলো।

Comments
Comments