সেহরি করতে গিয়ে মারধরের শিকার ঢাবি শিক্ষার্থী, ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় সোপর্দ
![]() |
| কয়েক দফা মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাবি শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেল | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সেহরি করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে তুলে নিয়ে কয়েক দফা মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহবাগ থানায় রেখে আসা হয়। এ সময় একটি মুঠোফোন, মোটরসাইকেলের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন—জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরারসহ আরও বেশ কয়েকজন।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল বলেন, ‘আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহসহ অন্যদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে বুয়েটের ভেতরে আমাকে মারধর করা হয়। পরে রিকশায় তুলে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে ও উপাচার্য চত্বরে নিয়ে আবারও পেটানো হয়। রাজু ভাস্কর্যের সামনেও কিছু সময় আটকে রেখে আমাকে মারা হয়েছে। সবশেষে থানায় রেখে যাওয়ার সময় গেটের সামনেও আমাকে মারধর করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে সব বোঝা যাবে।’
পাভেল আরও জানান, তাঁর সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তাঁকে বেল্ট দিয়ে পেটানো হয়েছে এবং দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে মারধর করা হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমি নিয়মিত ক্লাস করি, আমার বিভাগের শিক্ষকরাও তা জানেন।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ জানান, পাভেল জিয়া হলে থাকতেন এবং গত জুলাই আন্দোলনে তিনি হামলাকারী ছিলেন। বিভাগ থেকেও তাঁকে বর্জন করা হয়েছে। এর আগে শিক্ষার্থীরা তাঁকে থানায় দিলে আর ক্যাম্পাসে আসবেন না—এই শর্তে তাঁর মা-বাবাকে ডেকে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি পাভেল সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ইফতার ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগিয়েছেন। ধরার পর মুঠোফোন চেক করতে চাইলে তিনি বাগ্বিতণ্ডা শুরু করেন, তখন শিক্ষার্থীরা তাঁকে ধরে থানায় দেয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মোহাম্মদ সাকিব দাবি করেন, পাভেল ছাত্রলীগের সদস্য ও বড় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে অভিযোগকারীরা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. খোকন মিয়া বলেন, ‘একদল শিক্ষার্থী তাঁকে ছাত্রলীগ করার অভিযোগে রেখে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সকাল ১০টার পর আমাদের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।’

Comments
Comments