কিছু কারখানায় বেতন-বোনাস বকেয়া, যানজট কমাতে ধাপে ধাপে ছুটির সিদ্ধান্ত
![]() |
| পোশাক কারখানা | ফাইল ছবি |
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শুরু, এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়ে গেছে। তবে গাজীপুরের প্রায় ৫ শতাংশ শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা এখনো ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পাননি বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। এছাড়া ৯ শতাংশ কারখানাই ঈদ বোনাস দেননি। ঈদযাত্রায় যানজট এড়াতে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো এবারও ধাপে ধাপে ছুটি দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব কারখানায় বেতন ও বোনাস এখনও পরিশোধ হয়নি, সেগুলো ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা দিতে কাজ করবে। তবু বেতন–ভাতা নিয়ে অনেক শ্রমিকের মধ্যে দুশ্চিন্তা রয়েছে।
গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, বেতন-বোনাস না পেলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়। পরিবারের জন্য কিছু না নিয়ে গেলে খুব খারাপ লাগে।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ ও যানজট এড়াতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সাত দিনের ছুটি মঙ্গলবার থেকে শুরু হলেও অনেক কারখানায় ছুটি ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত হবে। ফলে সোমবার বিকেল থেকেই অনেক শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
শিল্প পুলিশ জানায়, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে গতকাল বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে ছুটি শুরু হয়েছে। গতকাল প্রায় ১০ শতাংশ কারখানা ছুটি দিয়েছে। মঙ্গলবার ছুটি দেবে প্রায় ২৫ শতাংশ, ১৮ মার্চ প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বাকি কারখানাগুলো ১৯ মার্চ ছুটি ঘোষণা করবে।
গাজীপুরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আওতায় মোট ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানা আছে। এর মধ্যে এবারের ঈদে ছুটি দেওয়া হবে ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায়। এছাড়া আংশিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আরও ৮১টি কারখানায়। ধারাবাহিকভাবে সোমবার ৬২টি, মঙ্গলবার ৪৪৪টি, বুধবার ১ হাজার ৪১৪টি এবং বৃহস্পতিবার ৮৩৩টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হবে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একযোগে ছুটি না দিয়ে ধাপে ধাপে দেওয়া হলে অনেকেই কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। এতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক সড়কে নামবেন না এবং যাত্রাপথের ভোগান্তিও কিছুটা কম হবে। তবে বকেয়া টাকা পাননি এমন শ্রমিকদের দুশ্চিন্তা কমছে না।
শ্রমিক রুমানা আক্তার বলেন, আগে যখন সবাই একই দিনে ছুটি পেত, তখন বাস বা ট্রেনে জায়গা পাওয়া খুব কঠিন হত। এখন একটু ভাগ হয়ে গেলে হয়তো কষ্টটা কমবে।
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকার এক শ্রমিক আবদুল করিম বলেন, আমি স্ত্রী ও সন্তানদের দুই দিন আগে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়েছি। এখন শুধু বেতনটা পেলে আমিও চলে যাব।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, সাদাপোশাকসহ প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মহাসড়কে বিকল যানবাহন দ্রুত সরিয়ে দিতে নয়টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, পোশাক শ্রমিকেরা যেন ভোগান্তি ছাড়া গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেন এবং মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কয়েক দিনে ভাগ হয়ে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, গাজীপুরের অধিকাংশ কারখানা ইতিমধ্যে শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। যারা বাকি আছে, তারা আগামী দুই দিনের মধ্যে তা পরিশোধ করবে।

Comments
Comments