[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এলোপাতাড়ি গাছ কাটা, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণের কথা বলে গাছ কাটছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার দুপুরে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এলোপাতাড়ি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ঈদগাহ মাঠ তৈরির নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে বুধবার সকালে বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নির্বিচারে নয়, বরং গাছ ঘন হওয়ায় এবং ঈদগাহ মাঠ করার প্রয়োজনে কিছু গাছ কাটা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে, মন্দিরের জায়গা, ছাত্রদের হলসহ বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা কিছু গাছ কাটার জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বুধবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের আম ও মেহগনিসহ অন্যান্য গাছ কাটা শুরু করেন ঠিকাদারের কর্মীরা। এই দৃশ্য দেখে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তাঁরা গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন।

বেলা দুইটার দিকে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় ৪৫টি কাটা গাছ মাটিতে পড়ে আছে। এ সময় আমির হোসেন, রহমত আলী, নয়ন মিয়া ও ওমর ফারুকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়।

শিক্ষার্থী নয়ন মিয়া বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বৃক্ষের জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। এখানে তিন হাজার প্রজাতির গাছ রয়েছে। এই গাছগুলো গরমের সময় আমাদের কতটা আরাম দেয়, তা সবাই জানে। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ১৮০টি গাছ কাটার এই হঠকারী সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, প্রশাসনকে তার জবাব দিতে হবে।’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি খেলার মাঠ আছে, যেখানে ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। ঈদগাহ মাঠের জন্য এভাবে গাছ কাটার প্রয়োজন ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করতেই এসব গাছ কাটা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পর বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমানসহ প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে আসেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাছে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান।

এ বিষয়ে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, কিছু জায়গায় গাছ অনেক ঘন হয়ে আছে এবং সেগুলো ঠিকমতো বাড়ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নামাজ পড়তে যেহেতু কষ্ট হয় এবং গাছগুলো বড় হচ্ছে না, তাই নামাজের কাতার করতে যেসব গাছ বাধা হচ্ছে, শুধু সেগুলোই কাটা হবে।

তবে প্রশাসনের এই বক্তব্য মানছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গ্রিন ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সাকিব সরকার বলেন, পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গাছপালা নির্বিচারে কেটে অবকাঠামো নির্মাণ করা অযৌক্তিক ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত। ক্যাম্পাসের গাছগুলো কেবল সৌন্দর্য নয়, এগুলো তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করে। পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। অবিলম্বে এই গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন