[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ইউট্যাবের, পুরো প্রশাসন বদলের দাবি ছাত্রদল-ছাত্রশক্তির

প্রকাশঃ
অ+ অ-
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে উপাচার্য ও প্রশাসনের পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছে। উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা ও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ চেয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। অন্যদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে পুরো প্রশাসনের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্রশক্তি।

রোববার ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে উপাচার্যের ওপর অনাস্থা জানিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উপাচার্যকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও তিনি তার কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে কিছু বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এমনকি তিনি নিজেও কয়েকবার স্বীকার করেছেন যে তাঁর নিয়োগ কর্তৃপক্ষ হলো জামায়াত-শিবির। ফলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের বদলে ওই বিশেষ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্দোলনের মাধ্যমে ৫৬ কোটি টাকার আবাসন বৃত্তি, বেদখল হওয়া হল উদ্ধার এবং কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়নসহ সরকারের কাছ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু এসব অর্জন বাস্তবায়নে বর্তমান উপাচার্য পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সাংবাদিকদের ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ না করে তিনি নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে সাংবাদিকদের ব্যবহার করছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি পরিকল্পিতভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ১৮ বছরের পুরনো গঠনতন্ত্র থেকে উপদেষ্টা পদ থেকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়েছেন এবং সমিতির ওপর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আধিপত্য তৈরি করেছেন।

এমন অবস্থায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে নতুন সরকারকে সমালোচিত করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হওয়ার আগেই উপাচার্যকে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে ইউট্যাব। অন্যথায় ইউট্যাবের কার্যকরী পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাই তাঁকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে হামলার বিচার না হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে পুরো প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে রোববার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তি।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে ‘প্রশাসন লালে লাল, জামায়াতের দালাল’, ‘অথর্ব প্রশাসন দলকানা প্রশাসন, মানি না মানব না’, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেন? প্রশাসন জবাব দে’, ‘এক দফা এক দাবি, ভিসি তুই কবে যাবি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁরা কোনো সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেননি। তবে জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা গোপন তৎপরতার মাধ্যমে পাতানো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সমিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।

মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের পরামর্শে বর্তমান উপাচার্য সাংবাদিক সমিতির জন্য নতুন নিয়ম তৈরি করে শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতার দাবিতে যমুনার সামনে আন্দোলনের পর বিশেষ বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হলেও এক বছরেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। দ্রুত এই বৃত্তি দেওয়া না হলে প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর জামায়াত-শিবিরের বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানাই। এই হামলার পেছনে জামায়াতপন্থী উপাচার্যের দায় রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি হয়নি। বৃত্তি দিতে না পারা এবং এই হামলার দায় নিয়ে প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে হবে।’

জবি শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যখন অনশন করেছিলাম, তখন প্রশাসন কথা দিয়েছিল যে জানুয়ারিতে সম্পূরক বৃত্তি দিতে না পারলে তারা পদত্যাগ করবে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থতা ও অদক্ষতার কারণে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি।’

ছাত্রশক্তির মুখপাত্র ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের পদত্যাগের দাবি আজ নতুন করে করছি না, অনেক আগে থেকেই করে আসছি। প্রশাসন আমাদের সম্পূরক বৃত্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। এই ব্যর্থ প্রশাসনের আমরা অনতিবিলম্বে পদত্যাগ চাই।’

এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার বিভিন্ন নেতা-কর্মী এবং ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, মো. শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান, রবিউল আউয়াল, নাহিয়ান বিন অনিক, শাখাওয়াত হোসেন পরাগ, মিয়া রাসেলসহ ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন