[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের তর্ক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে। আজ রোববার সকালে | ছবি: বিটিভির সৌজন্যে

জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে এই পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধানে এই পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না এবং রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকতে পারেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে এই বিষয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

গত রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় এই বিতর্ক হয়। বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হলে শুরুতেই শফিকুর রহমান আলোচনার জন্য দাঁড়ান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি, বরং রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এসেছে। ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এই আদেশ জারি করা হয়। তিনি সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আদেশে বলা হয়েছে—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা দুটি আলাদা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। আদেশ অনুযায়ী বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর জবাব দেন। শুরুতে তিনি কোন নিয়মে বিরোধীদলীয় নেতাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট বিধি অনুযায়ী কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা যায় না। তিনি এই ‘জুলাই আদেশ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এটি আইন নাকি অধ্যাদেশ তা স্পষ্ট নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কেবল দুটি কাজ ছাড়া বাকি সব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করেন। কিন্তু সংবিধানে এই সংস্কার পরিষদের কোনো উল্লেখ নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে এ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারেন না। আদালতও এই আদেশের কিছু অংশ নিয়ে রুল জারি করেছেন। বিচার বিভাগ এ নিয়ে মতামত দিতে পারে, তবে সার্বভৌম সংসদ এমন কোনো আইন করতে পারে না যা সংবিধান লঙ্ঘন করে। তাই জাতির স্বার্থে সবকিছু আইন ও সংবিধান অনুযায়ী করতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখন যদি বলা হয় যে গণভোটের রায় কার্যকর করার জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে, সেটি মানলাম। তবে আমরা সাংবিধানিক ভোটেই নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচন কমিশনের দুটি প্রধান দায়িত্ব—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সংবিধানের এই আদেশ মানতে কমিশন বাধ্য।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণভোটের জন্য আলাদা একটি আইন করা হয়েছে। বিএনপিও এমন প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে একটি আদেশের মাধ্যমে চারটি প্রশ্নের ওপর গণভোট নেওয়া হলো। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদের মতো বড় একটি বিষয়ে কোনো সমঝোতা ছিল না। এটি একটি জবরদস্তিমূলক ও চাপিয়ে দেওয়া আদেশ, যা গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে চারটি প্রশ্ন থাকলেও মানুষের কাছে আলাদাভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার সুযোগ ছিল না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এরপরও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। চলমান অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যাবে কি না, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ প্রথম দিনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটি ও সংসদ চাইলে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনমতকে অবশ্যই সম্মান দিতে হবে, তবে সেটি হতে হবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী। এখানে আবেগের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না; রাষ্ট্র চলে সংবিধান, আইন ও নিয়মনীতি দিয়ে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে প্রস্তাব দেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি তাঁদের সম্মান রয়েছে। কিন্তু এই সনদের বাইরে চাপিয়ে দেওয়া কোনো অবৈধ আদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না—সেটি বড় একটি আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনার আহ্বান জানান।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। তবে এ ধরনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। আপনি এই বিষয়ে বিধিমোতাবেক নোটিশ দিন। নোটিশ পাওয়ার পর আমি এ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেব।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন