কুমিল্লায় মন্দিরে হাতবোমা বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪
![]() |
| হাতবোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
কুমিল্লা শহরে একটি মন্দিরে দুর্বৃত্তদের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ী) কালী গাছতলা শিব মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে। একই সময়ে পাশের দুটি স্থানেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
শিব মন্দিরে বিস্ফোরণে পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী আহত হন। এ ছাড়া পাশের রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণে আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠাকুরপাড়া শিব মন্দিরে সন্ধ্যায় শনিপূজা করছিলেন পুরোহিতসহ কয়েকজন। ওই সময় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে মুখোশ পরা একজন ব্যাগ হাতে ওই মন্দিরে ঢোকেন। তার পাশে কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যাগটি রাখার একপর্যায়ে মুখোশ পরা ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মন্দিরে থাকা পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী আহত হন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর মন্দিরে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় শিব মন্দিরের পাশের বৌদ্ধ মন্দির ও ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তিনজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজনকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন—ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকার সুজত আলীর ছেলে আ. বারেক ও নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ। আহত অন্যজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তিনি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
আহত কেশব চক্রবর্তী বলেন, ‘বিস্ফোরণের সময় একটি সাদা বস্তু আমার সামনে এসে পড়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম গাছ থেকে কিছু পড়েছে, পরে ধোঁয়া দেখে অন্যরা জানায় এটি বোমা। কে বা কারা কী কারণে এই কাজ করল, তা বলতে পারছি না।’
কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। কারা ককটেল হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত নই। পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও নিয়েছে। যারা শান্ত পরিবেশ অশান্ত করতে চাইছে, আশা করি তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে এবং কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, মন্দির থেকে বিস্ফোরণের কিছু নমুনা ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ দল এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। সামান্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে গেছেন বলে জানান তিনি।

Comments
Comments