ঈদে যাত্রীসেবায় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রস্তুত হচ্ছে ১০৬ কোচ
![]() |
| ঈদ উপলক্ষে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ১০৬টি কোচের মেরামত চলছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ঈদের সময় ট্রেনের যাত্রীদের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই বাড়তি ভিড় সামলাতে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১০৬টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এসব কোচ মেরামতের কাজ চলছে, যা ঈদের সময় যাত্রী আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে। জনবল ও কাঁচামালের সংকট থাকলেও যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কারখানায় পুরোদমে কাজ চলছে। শ্রমিকরা এখন কোচের বগি মেরামত ও রঙ করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, কেউ ঝালাই করছেন, কেউ পুরোনো রঙ ঘষে তুলছেন, আবার কেউ নতুন রঙ লাগাচ্ছেন। মেরামত শেষ হওয়া বগিগুলো ইঞ্জিনের মাধ্যমে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০টি ব্রডগেজ ও ১৪টি মিটারগেজ বগি পাকশী ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচগুলোর মেরামত কাজ ঈদের আগেই শেষ হবে এবং দ্রুত সেগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ঈদ এলে ঘরমুখো মানুষকে গন্তব্যে ফিরতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই চাপ সামলাতেই ৬০টি ব্রডগেজ (বড়) ও ৪৬টি মিটারগেজ (ছোট লাইন) কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৪ শতাংশ জনবল এবং বাজেটের সল্পতাসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাজ চলছে। এসব কোচ ঈদে বিশেষ ট্রেনগুলোতে যুক্ত করা হবে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানার ২৯টি উপ-কারখানায় এসব কোচ মেরামতে কর্মকর্তারা ৩৯ কর্মদিবস সময় পেয়েছেন। মেরামত করা কোচগুলো আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গত বছর ঈদুল ফিতরে ১৬৭টি কোচ মেরামত করা হয়েছিল। এবার লক্ষ্যমাত্রা ১০৬টি হলেও শেষ পর্যন্ত এর চেয়ে বেশি কোচ মেরামত হতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি প্রতিবছর দুই ঈদের যাত্রীসেবার কথা ভেবে কোচ মেরামত করে থাকে। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে এবার ১০৬টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ৬১টি কোচ কম মেরামত করা হচ্ছে।
কারখানায় ২ হাজার ৮৫৯ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৬০ জন। এই দীর্ঘদিনের জনবল ও উপকরণ সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন একটি কোচ ও একটি ওয়াগন (মালবাহী বগি) মেরামত করা হয়। কাজের চাপে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় বা ওভারটাইমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা কাজ চলছে ২৯টি উপ-কারখানায়। শ্রমিকরা রঙ করা, বডি তৈরি এবং আসন মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কারখানার প্রধান শপ ক্যারেজ শপের ঝালাই মিস্ত্রি সুবহান মণ্ডল বলেন, 'ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা অচল কোচগুলোকে সচল করছি। আমাদের শ্রমের বিনিময়ে যাত্রীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরে ঈদ করতে পারবেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া।'
একই কারখানার পেইন্ট শপের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। রেলওয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, তাই আমরা বাড়তি শ্রম দিচ্ছি যেন যাত্রীদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।’
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, প্রতিবছর ঈদের সময় কারখানায় অতিরিক্ত কোচ মেরামত করা হয়। এবারও নির্ধারিত সময়ে সেগুলো সরবরাহের জন্য কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে, ঈদের আগেই সব কোচ ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কর্মীরা শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। এই কোচগুলো পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন হিসেবে চালানো হবে এবং আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতেও বাড়তি কোচ হিসেবে যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া কারখানার জনবল সংকট কাটাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, যা দ্রুতই সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আগামী ৩ মার্চ। প্রথম দিন দেওয়া হবে ১৩ মার্চের টিকিট। আর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ, সেদিন দেওয়া হবে ২৩ মার্চের টিকিট। এবারও সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। এছাড়া ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সুবিধার্থে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত থেকে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঈদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

Comments
Comments