[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

তামাকের রাজ্যে স্ট্রবেরি চাষে সফল কাইছার

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নিজের খেতে স্ট্রবেরির পরিচর্যায় কৃষক মোহাম্মদ কাইছার। সম্প্রতি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তামাকের চাষ হয়ে আসছে। তবে এবার সেই প্রথা ভেঙে তামাকের পরিবর্তে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হয়েছেন স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ কাইছার (৪২)। তিনি কাকারা ইউনিয়নের মিনিবাজার এলাকার বাসিন্দা।

মাতামুহুরী নদীর চরে নিজের বাড়ির কাছে ৩০ শতক জমিতে এই স্ট্রবেরি খেত তৈরি করেছেন কাইছার। তিনি জানান, চাষের শুরুতে রাজশাহীর একটি নার্সারি থেকে আমেরিকান ‘ফেস্টিভ্যাল’ জাতের ৪,০০০ চারা সংগ্রহ করেছিলেন, যার প্রতিটি চারার দাম ছিল ৬০ টাকা। জমি প্রস্তুত, সার, চারা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা।

সাফল্যের বিষয়ে কাইছার জানান, ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ৪.৫ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন। অর্থাৎ খরচ উঠে তাঁর লাভ শুরু হয়ে গেছে। কাইছার আশাবাদী যে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে আরও ২ থেকে ২.৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন।

কাইছার স্ট্রবেরির চারা রোপণ করেন গত বছরের ১৭ নভেম্বর। এর অল্প সময়ের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ২৮ জানুয়ারি ফল সংগ্রহ শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৭ কেজি স্ট্রবেরি সংগ্রহ হচ্ছে। এসব ফল চকরিয়া ও কক্সবাজার শহরের সুপারশপ, ফলের দোকান ও পাইকারদের কাছে সরবরাহ করা হয়।  

কাইছার গত বছরের ১৭ নভেম্বর স্ট্রবেরির চারা রোপণ করেছিলেন। এর অল্প সময়ের মধ্যেই গাছে ফুল আসে এবং ২৮ জানুয়ারি থেকে তিনি ফল সংগ্রহ শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন তাঁর খেত থেকে ১৫ থেকে ১৭ কেজি স্ট্রবেরি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব ফল চকরিয়া ও কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন সুপারশপ, ফলের দোকান ও পাইকারদের কাছে সরবরাহ করা হয়। তিনি প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করেছেন।

স্ট্রবেরি চাষে কাইছারের অভিজ্ঞতা বেশ পুরোনো। তিনি জানান, ২০০৭ সালে প্রথমবার এই ফলের চাষ করেছিলেন। তবে তখন স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় দুই বছর পর চাষ বন্ধ করে দেন। পরে ২০২১ সালে আবারও বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। গত মৌসুমে প্রায় ১৫ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করে তাঁর লাভ হয়েছিল ৮ লাখ টাকা।

কাইছারের মতে, স্ট্রবেরি মূলত শীতকালীন ফল। ঝরঝরে মাটিতে 'মালচিং' পদ্ধতিতে চাষ করলে আগাছা কম হয় এবং ফল পরিষ্কার থাকে। নিয়মিত সেচ ও সঠিক পরিচর্যা করলে ফলন ভালো পাওয়া যায়। বিশেষ করে শীত ও কুয়াশা বেশি হলে স্ট্রবেরির ফলন আরও বাড়ে।

স্ট্রবেরি শীতকালীন ফল। ঝরঝরে মাটিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে আগাছা কম হয় এবং ফল পরিষ্কার থাকে। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। শীত ও কুয়াশা বেশি হলে ফলনও বাড়ে।

মোহাম্মদ কাইছার, স্ট্রবেরি চাষি 

মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে বর্ষায় নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চরের জমিতে পলিমাটি জমেছে, যা মাটিকে অত্যন্ত উর্বর করেছে। কাইছার মনে করেন, এই পলিমাটির কারণেই স্ট্রবেরির ফলন এত ভালো হয়েছে। একসময় তিনি ১২ একর জমিতে তামাক চাষ করতেন, কিন্তু এখন ক্ষতিকর তামাক চাষ কমিয়ে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও ব্রকলির মতো লাভজনক ফসল চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে তিনি মাত্র দেড় একর জমিতে তামাক চাষ করেছেন এবং ভবিষ্যতে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কাইছারের খেত দেখে অন্য কৃষকেরাও স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, কাইছারের এই উদ্যোগ এলাকায় তামাকের বিকল্প ফসল চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং কৃষি বিভাগ থেকেও তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন