সরকার গঠনের মাস না পেরোতেই বেড়েছে ওয়াসা বুথের পানি দাম
![]() |
| ওয়াসার পানির বুথ | ফাইল ছবি |
সরকার গঠনের এক মাস পার হওয়ার আগেই ঢাকা ওয়াসার পানির এটিএম বুথে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটার পানির দাম ছিল ভ্যাটসহ ৮০ পয়সা। এখন তা ২০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০০ পয়সা বা ১ টাকা। পানির এই দাম বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। এ ছাড়া ওয়াসার বুথে পানি কিনতে এসেও অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পানির দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকেরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর মানুষের কষ্ট কমবে—এমন আশা থাকলেও উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।
ওয়াসার পানির এটিএম বুথগুলোতে আসা গ্রাহকদের প্রায় সবাই দাম বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, সরকারের উচিত ছিল ৮০ পয়সার পানি কমিয়ে ৫০ পয়সা করা। কারণ, এর আগে হুট করেই ৪০ পয়সার পানি ৮০ পয়সা করা হয়েছিল।
পুরান ঢাকার কলতাবাজারে অবস্থিত ওয়াসার পানির বুথ থেকে পানি নিতে আসা তাসফিয়া তামান্না বলেন, ‘যে জিনিসের দাম একবার বাড়ে, তা বাড়তেই থাকে। দাম কমার কোনো লক্ষণ থাকে না। পানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অতি জরুরি একটি জিনিস। সেই জিনিসের দামও হুট করে বাড়িয়ে দেওয়া হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াসার লাইনের পানি তো একেবারেই খাওয়ার অনুপযোগী। সেই ময়লা পানি ধোয়া-মোছা ও শৌচাগারের কাজে লাগে। কিন্তু বুথের পানি খাওয়া থেকে শুরু করে রান্নাবান্নাসহ সব প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। এখন সেটির দামও বেড়ে গেল। অনেকে হয়তো ভাববেন ২০ পয়সা আর এমন কী! কিন্তু আমাদের যাদের দিনে ২৫-৩০ লিটার পানি লাগে, তাদের জন্য এটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াবে।’
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় ওয়াসার বুথ থেকে পানি নিতে আসা রিয়াজ উদ্দিন নামের একজন গ্রাহক বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে, ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ খাবার পানিতে সরকার কোনো ভর্তুকি দিচ্ছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট কমাতে পানিসহ নিত্যপণ্যে ভর্তুকি দেওয়া সরকারের উচিত।’
পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াসা কর্মকর্তারা বলছেন, বুথ পরিচালনা ও অভ্যন্তরীণ খরচ বাড়ায় এবং বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে। যদিও একই কারণ দেখিয়ে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম লিটারপ্রতি ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ পয়সা করা হয়েছিল।
পানির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার উপপ্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘ওয়াসার এটিএম বুথ পরিচালনার খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে পানিতে যে রাসায়নিক ও ছাঁকনি ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর দাম বেড়েছে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেড়েছে। এ কারণে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাম বাড়ানো হয়েছে।’
ঢাকা ওয়াসা ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ড্রিংকওয়েল বর্তমানে রাজধানীতে ৩০২টি পানির এটিএম বুথ স্থাপন করেছে। ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মতো একটি বিশেষ কার্ড মেশিনের নির্দিষ্ট স্থানে রাখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ খাবার পানি বেরিয়ে আসে। নিয়ম অনুযায়ী কার্ডে ১০ টাকা থেকে ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যায়। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পানি সংগ্রহ করা যায়। এই সেবা নিতে গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

Comments
Comments